বলে রাখা ভালো, মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় কোনো সম্পর্ক নাই।
মহালয়াতে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে ভোরে তর্পণ করা হতো। সেই ভোরে চণ্ডীপাঠ করতেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। এভাবেই মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজা মিশেছে।
‘মহ’ শব্দটির দুইটি অর্থ আছে। ‘মহ’ বলতে বোঝায় পূজা, আবার 'মহ' বলতে বোঝায় উৎসব। আবার মহালয় বলতে বোঝায় মহান+আলয় = মহালয়। তার সঙ্গে স্ত্রীকারান্ত 'আ। মহালয় হচ্ছে পূজা বা উৎসবের আলয় বা আশ্রয়। আলয় শব্দটির একটি অর্থ হচ্ছে আশ্রয়। আন্যদিকে পুরাণ অনুসারে 'মহালয়' বলতে 'পিতৃলোককে' বোঝায়, যোখানে বিদেহী পিতৃপুরুষ অবস্থান করছেন। তা যদি হয়, তাহলে পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানই মহালয়া।
কিন্তু তাহলে স্ত্রীলিঙ্গ হলো কেন? পিতৃপক্ষের অবসানে, অন্ধকার অমাবস্যার সীমানা ডিঙিয়ে আমরা যখন আলোকময় দেবীপক্ষের আগমনকে প্রত্যক্ষ করি, তখনই সেই মহা লগ্নটি আমাদের জীবনে ‘মহালয়ার’ বার্তা বহন করে আনে। এক্ষেত্রে স্বয়ং দেবীই হচ্ছে সেই মহান আশ্রয়, তাই উত্তরণের লগ্নটির নাম মহালয়া।
তুষার কান্তি সরকার।