শ্রীভগবানুবাচময্যাসক্তমনাঃ পার্থ যোগং যুঞ্জন্মদাশ্রয়ঃ ।
অসংশয়ং সমগ্রং মাং যথা জ্ঞাস্যসি তচ্ছৃণু ॥১॥ময়ি, আসক্তমনাঃ, পার্থ,
যোগম্, যুঞ্জন্, মৎ-আশ্রয়ঃ
।
অসংশয়ম্, সমগ্রম্, মাম্, যথা, জ্ঞাস্যসি,
তৎ,
ছৃণু ॥১॥
অর্থ:-
শ্রীভগবান বললেন- হে পার্থ ! আমাতে আসক্তচিত্ত হয়ে, আমাতে
মনোনিবেশ করে যোগাভ্যাস করলে, কিভাবে সমস্ত সংশয় থেকে মুক্ত হয়ে
আমাকে জানতে পারবে,
তা শ্রবণ কর।
শ্লোক:2:জ্ঞানং তেহহং সবিজ্ঞানমিদং বক্ষ্যাম্যশেষতঃ ।যজ্ জ্ঞাত্বা নেহ ভূয়োহন্যজ্ জ্ঞাতব্যমবশিষ্যতে ॥২॥
জ্ঞানম্, তে, অহম্, স-বিজ্ঞানম্,
ইদম্, বক্ষ্যামি, অশেষতঃ,যৎ,
জ্ঞাত্বা, ন, ইহ, ভূয়ঃ,
অন্যৎ, জ্ঞাতব্যম্, অবশিষ্যতে ॥২॥
অর্থ:-
আমি এখন তোমাকে বিজ্ঞান সমন্বিত এই জ্ঞানের কথা সম্পূর্ণরূপে বলব, যা জানা হলে এই জগতে আর কিছুই জানবার বাকি থাকে না।
শ্লোক:3:মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্ যততি সিদ্ধয়ে ।যততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ ॥৩॥
মনুষ্যাণাম্, সহস্রেষু, কশ্চিৎ,
যততি, সিদ্ধয়ে,যততাম্, অপি, সিদ্ধানাম্, কশ্চিৎ,
মাম্, বেত্তি, তত্ত্বতঃ
॥৩॥
অর্থ:-
হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কদাচিৎ কোন একজন সিদ্ধি লাভের জন্য যত্ন করেন, আর সেই প্রকার যত্নশীল সিদ্ধদের মধ্যে কদাচিৎ একজন আমাকে অর্থাৎ আমার
ভগবৎ-স্বরূপকে তত্ত্বত অবগত হন।
শ্লোক:4:ভূমিরাপোহনলো বায়ুঃ খং মনো বুদ্ধিরেব চ ।অহঙ্কার ইতীয়ং মে ভিন্না প্রকৃতিরষ্টধা ॥৪॥
ভূমিঃ, আপঃ, অনলঃ, বায়ুঃ,
খম্,
মনঃ,
বুদ্ধিঃ, এব, চ,অহঙ্কারঃ, ইতি, ইয়ম্, মে, ভিন্না,
প্রকৃতিঃ, অষ্টধা ॥৪॥
অর্থ:-
ভূমি, জল, বায়ু,
অগ্নি, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার- এই আট প্রকারে আমার ভিন্না জড়া প্রকৃতি বিভক্ত।
শ্লোক:5:অপরেয়মিতস্ত্বন্যাং প্রকৃতিং বিদ্ধি মে পরাম্ ।
জীবভূতাং মহাবাহো যয়েদং ধার্যতে জগৎ ॥৫॥অপরা, ইয়ম্, ইতঃ, তু, অন্যাম্,
প্রকৃতিম্, বিদ্ধি, মে, পরাম্,
জীবভূতাম্, মহাবাহো, যয়া, ইদম্,
ধার্যতে, জগৎ ॥৫॥
অর্থ:-
হে মহাবাহো ! এই নিকৃষ্টা প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর একটি উৎকৃষ্টা প্রকৃতি রয়েছে।
সেই প্রকৃতি চৈতন্য-স্বরূপা ও জীবভূতা; সেই শক্তি থেকে সমস্ত জীব
নিঃসৃত হয়ে এই জড় জগৎকে ধারণ করে আছে।
শ্লোক:6:এতদ্ যোনীনি ভূতানি সর্বাণীত্যুপধারয় ।অহং কৃৎস্নস্য জগতঃ প্রভবঃ প্রলয়স্তথা ॥৬॥
এতদ্-যোনীনি, ভূতানি, সর্বাণি,
ইতি,
উপধারয়,অহম্, কৃৎস্নস্য, জগতঃ,
প্রভবঃ, প্রলয়ঃ, তথা
॥৬॥
অর্থ:-
আমার এই উভয় প্রকৃতি থেকে জড় ও চেতন সব কিছু উৎপন্ন হয়েছে। অতএব নিশ্চিতভাবে
জেনে রেখো যে,
আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ।
শ্লোক:7:মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয় ।ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব ॥৭॥
মত্তঃ, পরতরম্, ন, অন্যৎ,
কিঞ্চিৎ, অস্তি, ধনঞ্জয়,ময়ি, সর্বম্, ইদম্, প্রোতম্,
সূত্রে, মণিগণাঃ, ইব
॥৭॥
অর্থ:-
হে ধনঞ্জয় ! আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতঃপ্রোতভাবে অবস্থান করে।
শ্লোক:8:রসোহহমপ্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ ।প্রণবঃ সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু ॥৮॥
রসঃ,
অহম্, অপ্সু, কৌন্তেয়, প্রভা,
অস্মি, শশি-সূর্যয়োঃ,প্রণবঃ, সর্ববেদেষু, শব্দঃ,
খে,
পৌরুষম্, নৃষু ॥৮॥
অর্থ:-
হে কৌন্তেয় ! আমিই জলের রস, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা, সর্ব বেদের প্রণব,
আকাশের শব্দ এবং মানুষের পৌরুষ।
শ্লোক:9:পূণ্যো গন্ধঃ পৃথিব্যাং চ তেজশ্চাস্মি বিভাবসৌ ।জীবনং সর্বভূতেষু তপশ্চাস্মি তপস্বিষু ॥৯॥
পূণ্যঃ, গন্ধঃ, পৃথিব্যাম্, চ, তেজঃ,
চ,
অস্মি, বিভাবসৌ,জীবনম্, সর্বভূতেষু, তপঃ, চ, অস্মি,
তপস্বিষু ॥৯॥
অর্থ:-
আমি পৃথিবীর পবিত্র গন্ধ,
অগ্নির তেজ, সর্বভূতের জীবন এবং
তপস্বীদের তপ।
শ্লোক:10:বীজং মাং সর্বভূতানাং বিদ্ধি পার্থ সনাতনম্।বুদ্ধির্বুদ্ধিমতামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্ ॥১০॥
বীজম্, মাম্, সর্বভূতানাম্, বিদ্ধি,
পার্থ, সনাতনম্,বুদ্ধিঃ, বুদ্ধিমতাম্, অস্মি,
তেজঃ, তেজস্বিনাম্, অহম্ ॥১০॥
অর্থ:-
হে পার্থ,
আমাকে সর্বভূতের সনাতন কারণ বলে জানবে। আমি বুদ্ধিমানের
বুদ্ধি এবং তেজস্বীদের তেজ।
শ্লোক:11:বলং বলবতাং চাহং কামরাগবিবর্জিতম্ ।ধর্মাবিরুদ্ধো ভূতেষু কামোহস্মি ভরতর্ষভ ॥১১॥
বলম্, বলবতাম্, চ, অহম্,
কাম-রাগ-বিবর্জিতম্,ধর্ম-অবিরুদ্ধঃ, ভূতেষু, কামঃ,
অস্মি, ভরতর্ষভ ॥১১॥
অর্থ:-
হে ভরতর্ষভ ! আমি বলবানের কাম ও রাগ বিবর্জিত বল এবং ধর্মের অবিরোধী কামরূপে অমি
প্রাণীগণের মধ্যে বিরাজমান।
শ্লোক:12:যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে ।মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং তেষু তে ময়ি ॥১২॥
যে,
চ,
এব,
সাত্ত্বিকাঃ, ভাবাঃ, রাজসাঃ,
তামসাঃ, চ, যে,মত্তঃ, এব, ইতি, তান্,
বিদ্ধি, ন, তু, অহম্,
তেষু, তে, ময়ি ॥১২॥
অর্থ:-
সমস্ত সাত্ত্বিক,
রাজসিক ও তামসিক ভাবসমূহ আমার থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। আমি
সেই সকলের অধীন নই,
কিন্তু তারা আমার শক্তির অধীন।
শ্লোক:13:ত্রিভির্গুণময়ৈর্ভাবৈরেভিঃ সর্বমিদং জগৎ ।মোহিতং নাভিজানাতি মামেভ্যঃ পরমব্যয়ম্ ॥১৩॥
ত্রিভিঃ, গুণময়ৈঃ, ভাবৈঃ,
এভিঃ, সর্বম্, ইদম্, জগৎ,মোহিতম্, ন, অভিজানাতি, মাম্,
এভ্যঃ, পরম্, অব্যয়ম্
॥১৩॥
অনুবাদ:-(সত্ত্ব, রজ ও তম) তিনটি গুণের দ্বারা মোহিত হওয়ার ফলে সমগ্র জগৎ এই সমস্ত গুণের অতীত
ও অব্যয় আমাকে জানতে পারে না।
শ্লোক:14:দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া ।মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ॥১৪॥
দৈবী, হি, এষা, গুণময়ী,
মম,
মায়া, দুঃ-অত্যয়া,মাম্, এব, যে, প্রপদ্যন্তে,
মায়াম্, এতাম্, তরন্তি, তে ॥১৪॥
অর্থ:-
আমার এই দৈবী মায়া ত্রিগুণাত্মিকা এবং তা দুরতিক্রমণীয়া। কিন্তু যাঁরা আমাতে
প্রপত্তি করেন,
তাঁরাই এই মায়া উত্তীর্ণ হতে পারেন।
শ্লোক:15:ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ ।মায়য়াপহৃতজ্ঞানা আসুরং ভাবমাশ্রিতাঃ ॥১৫॥
ন,
মাম্, দুষ্কৃতিনঃ, মূঢ়াঃ,
প্রপদ্যন্তে, নর-অধমাঃ ।মায়য়া, অপহৃত-জ্ঞানাঃ, আসুরম্,
ভাবম্, আশ্রিতাঃ ॥১৫॥
অর্থ:-
মূঢ়, নরাধম,
মায়ার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে এবং যারা আসুরিক
ভাবসম্পন্ন,
সেই সমস্ত দুষ্কৃতকারীরা কখনও আমার শরণাগত হয় না।
শ্লোক:16:চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন ।আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থার্থী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ ॥১৬॥
চতুর্বিধাঃ, ভজন্তে, মাম্,
জনাঃ, সুকৃতিনঃ, অর্জুন,আর্তঃ, জিজ্ঞাসুঃ, অর্থ-অর্থী,
জ্ঞানী, চ, ভরত-ঋষভ ॥১৬॥
অর্থ:-
হে ভরতশ্রেষ্ঠ অর্জুন ! আর্ত, অর্থাথী, জিজ্ঞাসু
ও জ্ঞানী- এই চার প্রকার পুণ্যকর্মা ব্যক্তিগণ আমার ভজনা করেন।
শ্লোক:17:তেষাং জ্ঞানী নিত্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ্যতে ।প্রিয়ো হি জ্ঞানিনোহত্যর্থমহং স চ মম প্রিয়ঃ ॥১৭॥
তেষাম্, জ্ঞানী, নিত্যযুক্তঃ, একভক্তিঃ,
বিশিষ্যতে,প্রিয়োঃ, হি, জ্ঞানিনঃ, অতি-অর্থম্,
অহম্, সঃ, চ, মম, প্রিয়ঃ ॥১৭॥
অর্থ:-
এই চার প্রকার ভক্তের মধ্যে নিত্যযুক্ত, আমাতে একনিষ্ঠ
তত্ত্বজ্ঞানীই শ্রেষ্ঠ। কেন না আমি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় এবং তিনিও আমার অত্যন্ত
প্রিয়।
শ্লোক:18:উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্ ।আস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্ ॥১৮॥
উদারাঃ, সর্বে, এব, এতে, জ্ঞানী,
তু,
আত্মা, এব, মে, মতম্,আস্থিতঃ, সঃ, হি, যুক্ত-আত্মা,
মাম্, এব, অনুত্তমাম্, গতিম্ ॥১৮॥
অর্থ:-
এই সকল ভক্তেরা সকলেই নিঃসন্দেহে মহাত্মা, কিন্তু যে জ্ঞানী আমার
তত্ত্বজ্ঞানে অধিষ্ঠিত,
আমার মতে তিনি আমার আত্মস্বরূপ৷ আমার অপ্রাকৃত সেবায় যুক্ত
হয়ে তিনি সর্বোত্তম গতিস্বরূপ আমাকে লাভ করেন।
শ্লোক:19:বহূনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মাং প্রপদ্যতে।বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ ॥১৯॥
বহূনাম্, জন্মনাম্, অন্তে,
জ্ঞানবাম্, মাম্, প্রপদ্যতে,বাসুদেবঃ, সর্বম্, ইতি, সঃ, মহাত্মা,
সুদুর্লভঃ ॥১৯॥
অর্থ:-
বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার
শরণাগত হন৷ সেইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।
শ্লোক:20:কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেহন্যদেবতাঃ ।তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া ॥২০॥
কামৈঃ, তৈঃ, তৈঃ, হৃতজ্ঞানাঃ,
প্রপদ্যন্তে, অন্য-দেবতাঃ,তম্,
তম্,
নিয়মম্, আস্থায়, প্রকৃত্যা, নিয়তাঃ,
স্বয়া ॥২০॥
অর্থ:-জড়
কামনা-বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারা অন্য দেব-দেবীর
শরণাগত হয় এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা
করে।
শ্লোক:21:যো যো যাং যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি ।তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্ ॥২১॥
যঃ যঃ যাম্, যাম্, তনুম্,
ভক্তঃ, শ্রদ্ধয়াঃ, অর্চিতুম্,
ইচ্ছতি,তস্য, তস্য, অচলাম্, শ্রদ্ধাম্,
তাম্, এব, বিদধামি, অহম্ ॥২১॥
অর্থ:-
পরমাত্মারূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি ।
শ্লোক:22:স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে ।লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্ ॥২২॥
সঃ,
তয়া, শ্রদ্ধয়া, যুক্তঃ,
তস্য, আরাধনম্, ঈহতে,লভতে, চ, ততঃ, কামান্,
ময়া, এব, বিহিতান্, হি, তান্ ॥২২॥
অর্থ:-
সেই ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে
আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু অবশ্যই লাভ করেন।
শ্লোক:23:অন্তবত্তু ফলং তেষাং তদ্ ভবত্যল্পমেধসাম্ ।দেবান্ দেবযজো যান্তি মদ্ভক্তা যান্তি মামপি ॥২৩॥
অন্তবৎ, তু, ফলম্, তেষাম্,
তৎ,
ভবতি, অল্পমেধসাম্,দেবান্, দেবযজঃ, যান্তি, মদ্-ভক্তাঃ,
যান্তি, মাম্, অপি
॥২৩॥
অর্থ:-
অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের আরাধনা লব্ধ সেই ফল অস্থায়ী। দেবোপাসকগণ দেবলোক প্রাপ্ত হন, কিন্তু আমার ভক্তেরা আমার পরম ধাম প্রাপ্ত হন।
শ্লোক:24:অব্যক্তং ব্যক্তিমাপন্নং মন্যন্তে মামবুদ্ধয়ঃ ।পরং ভাবমজানন্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্ ॥২৪॥
অব্যক্তম্, ব্যক্তিম্, আপন্নম্,
মন্যন্তে, মাম্, অবুদ্ধয়ঃ,পরম্, ভাবম্, অজানন্তঃ, মম, অব্যয়ম্,
অনুত্তমম্ ॥২৪॥
অর্থ:-
বুদ্ধিহীন মানুষেরা,
যারা আমাকে জানে না, মনে করে যে, আমি পূর্বে অব্যক্ত নির্বিশেষ ছিলাম, এখন ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ
করেছি। তাদের অজ্ঞতার ফলে তারা আমার অব্যয় ও সর্বোত্তম পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত
নয়।
শ্লোক:25:নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ ।মূঢ়োহয়ং নাভিজানাতি লোকো মামজমব্যয়ম্ ॥২৫॥
ন,
অহম্, প্রকাশঃ, সর্বস্য, যোগমায়াসমাবৃতঃ,মূঢ়ঃ, অয়ম্, ন, অভিজানাতি,
লোকঃ, মাম্, অজম্, অব্যয়ম্ ॥২৫॥
অর্থ:-
আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার
অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি৷ তাই, তাঁরা
আমার অজ ও অব্যয় স্বরূপকে জানতে পারে না।
শ্লোক:26:বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন ।ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন ॥২৬॥
বেদ,
অহম্, সম্-অতীতানি, বর্তমানানি,
চ,
অর্জুন,ভবিষ্যাণি, চ, ভূতানি, মাম্,
তু,
বেদ,
ন,
কঃ-চন ॥২৬॥
অর্থ:-
হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।
শ্লোক:27:ইচ্ছাদ্বেষসমুত্থেন দ্বন্দ্বমোহেন ভারত ।সর্বভূতানি সম্মোহং সর্গে যান্তি পরন্তপ ॥২৭॥
ইচ্ছা-দ্বেষ-সমুত্থেন, দ্বন্দ্ব-মোহেন, ভারত,সর্বভূতানি, সম্মোহম্, সর্গে,
যান্তি, পরন্তপ ॥২৭॥
অর্থ:-
হে ভারত ! হে পরন্তপ ! ইচ্ছা ও দ্বেষ থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের দ্বারা বিভ্রান্ত
হয়ে সমস্ত জীব মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
শ্লোক:28:যেষাং ত্বন্তগতং পাপং জনানাং পুণ্যকর্মণাম্ ।তে দ্বন্দ্বমোহনির্মুক্তা ভজন্তে মাং দৃঢ়ব্রতাঃ ॥২৮॥
যেষাম্, তু, অন্তগতম্, পাপম্,
জনানাম্, পুণ্যকর্মণাম্,তে,
দ্বন্দ্বমোহ-নির্মুক্তাঃ, ভজন্তে, মাম্,
দৃঢ়ব্রতাঃ ॥২৮॥
অর্থ:-
যে সমস্ত পুণ্যবান ব্যক্তির পাপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়েছে এবং যাঁরা
দ্বন্দ্বমোহ থেকে মুক্ত হয়েছেন, তাঁরা দৃঢ় নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ভজনা
করেন।
শ্লোক:29:জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে ।তে ব্রহ্ম তদ্ বিদুঃ কৃৎস্নমধ্যাত্মং কর্ম চাখিলম্ ॥২৯॥
জরা-মরণ-মোক্ষায়, মাম্, আশ্রিত্য,
যতন্তি, যে,তে,
ব্রহ্ম, তৎ, বিদুঃ, কৃৎস্নম্,
অধ্যাত্মম্, কর্ম, চ, অখিলম্ ॥২৯॥
অর্থ:-
যে সমস্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি জরা ও মৃত্যু থেকে মুক্তি লাভের জন্য আমাকে আশ্রয় করে
যত্ন করেন,
তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মভূত, কেন
না তাঁরা অধ্যাত্মতত্ত্ব ও কর্মতত্ত্ব সব কিছু সম্পূর্ণরূপে অবগত।
শ্লোক:30:সাধিভূতাধিদৈবং মাং সাধিযজ্ঞং চ যে বিদুঃ ।প্রায়াণকালেহপি চ মাং তে বিদুর্যুক্তচেতসঃ ॥৩০॥
স-অধিভূত-অধিদৈবম্, মাম্, স-অধিযজ্ঞম্,
চ,
যে,
বিদুঃ,প্রায়াণকালে, অপি, চ, মাম্,
তে,
বিদুঃ, যুক্তচেতসঃ ॥৩০॥
অর্থ:-
যাঁরা অধিভূত-তত্ত্ব,
অধিদৈব-তত্ত্ব ও অধিযজ্ঞ-তত্ত্ব সহ আমাকে পরমেশ্বর ভগবান
বলে অবগত হন,
তাঁরা আমাতে আসক্তচিত্ত, এমন কি মরণকালেও আমাকে
জানতে পারেন।ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে
শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'জ্ঞানবিজ্ঞানযোগো' নাম সপ্তমোঽধ্যায়ঃ ॥৭॥
শ্রীভগবানুবাচ
ময্যাসক্তমনাঃ পার্থ যোগং যুঞ্জন্মদাশ্রয়ঃ ।
অসংশয়ং সমগ্রং মাং যথা জ্ঞাস্যসি তচ্ছৃণু ॥১॥
ময়ি, আসক্তমনাঃ, পার্থ,
যোগম্, যুঞ্জন্, মৎ-আশ্রয়ঃ
।
অসংশয়ম্, সমগ্রম্, মাম্, যথা, জ্ঞাস্যসি,
তৎ,
ছৃণু ॥১॥
অর্থ:-
শ্রীভগবান বললেন- হে পার্থ ! আমাতে আসক্তচিত্ত হয়ে, আমাতে
মনোনিবেশ করে যোগাভ্যাস করলে, কিভাবে সমস্ত সংশয় থেকে মুক্ত হয়ে
আমাকে জানতে পারবে,
তা শ্রবণ কর।
শ্লোক:2:
জ্ঞানং তেহহং সবিজ্ঞানমিদং বক্ষ্যাম্যশেষতঃ ।
যজ্ জ্ঞাত্বা নেহ ভূয়োহন্যজ্ জ্ঞাতব্যমবশিষ্যতে ॥২॥
জ্ঞানম্, তে, অহম্, স-বিজ্ঞানম্,
ইদম্, বক্ষ্যামি, অশেষতঃ,
যৎ,
জ্ঞাত্বা, ন, ইহ, ভূয়ঃ,
অন্যৎ, জ্ঞাতব্যম্, অবশিষ্যতে ॥২॥
অর্থ:-
আমি এখন তোমাকে বিজ্ঞান সমন্বিত এই জ্ঞানের কথা সম্পূর্ণরূপে বলব, যা জানা হলে এই জগতে আর কিছুই জানবার বাকি থাকে না।
শ্লোক:3:
মনুষ্যাণাং সহস্রেষু কশ্চিদ্ যততি সিদ্ধয়ে ।
যততামপি সিদ্ধানাং কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ ॥৩॥
মনুষ্যাণাম্, সহস্রেষু, কশ্চিৎ,
যততি, সিদ্ধয়ে,
যততাম্, অপি, সিদ্ধানাম্, কশ্চিৎ,
মাম্, বেত্তি, তত্ত্বতঃ
॥৩॥
অর্থ:-
হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কদাচিৎ কোন একজন সিদ্ধি লাভের জন্য যত্ন করেন, আর সেই প্রকার যত্নশীল সিদ্ধদের মধ্যে কদাচিৎ একজন আমাকে অর্থাৎ আমার
ভগবৎ-স্বরূপকে তত্ত্বত অবগত হন।
শ্লোক:4:
ভূমিরাপোহনলো বায়ুঃ খং মনো বুদ্ধিরেব চ ।
অহঙ্কার ইতীয়ং মে ভিন্না প্রকৃতিরষ্টধা ॥৪॥
ভূমিঃ, আপঃ, অনলঃ, বায়ুঃ,
খম্,
মনঃ,
বুদ্ধিঃ, এব, চ,
অহঙ্কারঃ, ইতি, ইয়ম্, মে, ভিন্না,
প্রকৃতিঃ, অষ্টধা ॥৪॥
অর্থ:-
ভূমি, জল, বায়ু,
অগ্নি, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার- এই আট প্রকারে আমার ভিন্না জড়া প্রকৃতি বিভক্ত।
শ্লোক:5:
অপরেয়মিতস্ত্বন্যাং প্রকৃতিং বিদ্ধি মে পরাম্ ।
জীবভূতাং মহাবাহো যয়েদং ধার্যতে জগৎ ॥৫॥
অপরা, ইয়ম্, ইতঃ, তু, অন্যাম্,
প্রকৃতিম্, বিদ্ধি, মে, পরাম্,
জীবভূতাম্, মহাবাহো, যয়া, ইদম্,
ধার্যতে, জগৎ ॥৫॥
অর্থ:-
হে মহাবাহো ! এই নিকৃষ্টা প্রকৃতি ব্যতীত আমার আর একটি উৎকৃষ্টা প্রকৃতি রয়েছে।
সেই প্রকৃতি চৈতন্য-স্বরূপা ও জীবভূতা; সেই শক্তি থেকে সমস্ত জীব
নিঃসৃত হয়ে এই জড় জগৎকে ধারণ করে আছে।
শ্লোক:6:
এতদ্ যোনীনি ভূতানি সর্বাণীত্যুপধারয় ।
অহং কৃৎস্নস্য জগতঃ প্রভবঃ প্রলয়স্তথা ॥৬॥
এতদ্-যোনীনি, ভূতানি, সর্বাণি,
ইতি,
উপধারয়,
অহম্, কৃৎস্নস্য, জগতঃ,
প্রভবঃ, প্রলয়ঃ, তথা
॥৬॥
অর্থ:-
আমার এই উভয় প্রকৃতি থেকে জড় ও চেতন সব কিছু উৎপন্ন হয়েছে। অতএব নিশ্চিতভাবে
জেনে রেখো যে,
আমিই সমস্ত জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের মূল কারণ।
শ্লোক:7:
মত্তঃ পরতরং নান্যৎ কিঞ্চিদস্তি ধনঞ্জয় ।
ময়ি সর্বমিদং প্রোতং সূত্রে মণিগণা ইব ॥৭॥
মত্তঃ, পরতরম্, ন, অন্যৎ,
কিঞ্চিৎ, অস্তি, ধনঞ্জয়,
ময়ি, সর্বম্, ইদম্, প্রোতম্,
সূত্রে, মণিগণাঃ, ইব
॥৭॥
অর্থ:-
হে ধনঞ্জয় ! আমার থেকে শ্রেষ্ঠ আর কেউ নেই। সূত্রে যেমন মণিসমূহ গাঁথা থাকে, তেমনই সমস্ত বিশ্বই আমাতে ওতঃপ্রোতভাবে অবস্থান করে।
শ্লোক:8:
রসোহহমপ্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ ।
প্রণবঃ সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু ॥৮॥
রসঃ,
অহম্, অপ্সু, কৌন্তেয়, প্রভা,
অস্মি, শশি-সূর্যয়োঃ,
প্রণবঃ, সর্ববেদেষু, শব্দঃ,
খে,
পৌরুষম্, নৃষু ॥৮॥
অর্থ:-
হে কৌন্তেয় ! আমিই জলের রস, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা, সর্ব বেদের প্রণব,
আকাশের শব্দ এবং মানুষের পৌরুষ।
শ্লোক:9:
পূণ্যো গন্ধঃ পৃথিব্যাং চ তেজশ্চাস্মি বিভাবসৌ ।
জীবনং সর্বভূতেষু তপশ্চাস্মি তপস্বিষু ॥৯॥
পূণ্যঃ, গন্ধঃ, পৃথিব্যাম্, চ, তেজঃ,
চ,
অস্মি, বিভাবসৌ,
জীবনম্, সর্বভূতেষু, তপঃ, চ, অস্মি,
তপস্বিষু ॥৯॥
অর্থ:-
আমি পৃথিবীর পবিত্র গন্ধ,
অগ্নির তেজ, সর্বভূতের জীবন এবং
তপস্বীদের তপ।
শ্লোক:10:
বীজং মাং সর্বভূতানাং বিদ্ধি পার্থ সনাতনম্।
বুদ্ধির্বুদ্ধিমতামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্ ॥১০॥
বীজম্, মাম্, সর্বভূতানাম্, বিদ্ধি,
পার্থ, সনাতনম্,
বুদ্ধিঃ, বুদ্ধিমতাম্, অস্মি,
তেজঃ, তেজস্বিনাম্, অহম্ ॥১০॥
অর্থ:-
হে পার্থ,
আমাকে সর্বভূতের সনাতন কারণ বলে জানবে। আমি বুদ্ধিমানের
বুদ্ধি এবং তেজস্বীদের তেজ।
শ্লোক:11:
বলং বলবতাং চাহং কামরাগবিবর্জিতম্ ।
ধর্মাবিরুদ্ধো ভূতেষু কামোহস্মি ভরতর্ষভ ॥১১॥
বলম্, বলবতাম্, চ, অহম্,
কাম-রাগ-বিবর্জিতম্,
ধর্ম-অবিরুদ্ধঃ, ভূতেষু, কামঃ,
অস্মি, ভরতর্ষভ ॥১১॥
অর্থ:-
হে ভরতর্ষভ ! আমি বলবানের কাম ও রাগ বিবর্জিত বল এবং ধর্মের অবিরোধী কামরূপে অমি
প্রাণীগণের মধ্যে বিরাজমান।
শ্লোক:12:
যে চৈব সাত্ত্বিকা ভাবা রাজসাস্তামসাশ্চ যে ।
মত্ত এবেতি তান্ বিদ্ধি ন ত্বহং তেষু তে ময়ি ॥১২॥
যে,
চ,
এব,
সাত্ত্বিকাঃ, ভাবাঃ, রাজসাঃ,
তামসাঃ, চ, যে,
মত্তঃ, এব, ইতি, তান্,
বিদ্ধি, ন, তু, অহম্,
তেষু, তে, ময়ি ॥১২॥
অর্থ:-
সমস্ত সাত্ত্বিক,
রাজসিক ও তামসিক ভাবসমূহ আমার থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। আমি
সেই সকলের অধীন নই,
কিন্তু তারা আমার শক্তির অধীন।
শ্লোক:13:
ত্রিভির্গুণময়ৈর্ভাবৈরেভিঃ সর্বমিদং জগৎ ।
মোহিতং নাভিজানাতি মামেভ্যঃ পরমব্যয়ম্ ॥১৩॥
ত্রিভিঃ, গুণময়ৈঃ, ভাবৈঃ,
এভিঃ, সর্বম্, ইদম্, জগৎ,
মোহিতম্, ন, অভিজানাতি, মাম্,
এভ্যঃ, পরম্, অব্যয়ম্
॥১৩॥
অনুবাদ:-(সত্ত্ব, রজ ও তম) তিনটি গুণের দ্বারা মোহিত হওয়ার ফলে সমগ্র জগৎ এই সমস্ত গুণের অতীত
ও অব্যয় আমাকে জানতে পারে না।
শ্লোক:14:
দৈবী হ্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত্যয়া ।
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে ॥১৪॥
দৈবী, হি, এষা, গুণময়ী,
মম,
মায়া, দুঃ-অত্যয়া,
মাম্, এব, যে, প্রপদ্যন্তে,
মায়াম্, এতাম্, তরন্তি, তে ॥১৪॥
অর্থ:-
আমার এই দৈবী মায়া ত্রিগুণাত্মিকা এবং তা দুরতিক্রমণীয়া। কিন্তু যাঁরা আমাতে
প্রপত্তি করেন,
তাঁরাই এই মায়া উত্তীর্ণ হতে পারেন।
শ্লোক:15:
ন মাং দুষ্কৃতিনো মূঢ়াঃ প্রপদ্যন্তে নরাধমাঃ ।
মায়য়াপহৃতজ্ঞানা আসুরং ভাবমাশ্রিতাঃ ॥১৫॥
ন,
মাম্, দুষ্কৃতিনঃ, মূঢ়াঃ,
প্রপদ্যন্তে, নর-অধমাঃ ।
মায়য়া, অপহৃত-জ্ঞানাঃ, আসুরম্,
ভাবম্, আশ্রিতাঃ ॥১৫॥
অর্থ:-
মূঢ়, নরাধম,
মায়ার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে এবং যারা আসুরিক
ভাবসম্পন্ন,
সেই সমস্ত দুষ্কৃতকারীরা কখনও আমার শরণাগত হয় না।
শ্লোক:16:
চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন ।
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থার্থী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ ॥১৬॥
চতুর্বিধাঃ, ভজন্তে, মাম্,
জনাঃ, সুকৃতিনঃ, অর্জুন,
আর্তঃ, জিজ্ঞাসুঃ, অর্থ-অর্থী,
জ্ঞানী, চ, ভরত-ঋষভ ॥১৬॥
অর্থ:-
হে ভরতশ্রেষ্ঠ অর্জুন ! আর্ত, অর্থাথী, জিজ্ঞাসু
ও জ্ঞানী- এই চার প্রকার পুণ্যকর্মা ব্যক্তিগণ আমার ভজনা করেন।
শ্লোক:17:
তেষাং জ্ঞানী নিত্যযুক্ত একভক্তির্বিশিষ্যতে ।
প্রিয়ো হি জ্ঞানিনোহত্যর্থমহং স চ মম প্রিয়ঃ ॥১৭॥
তেষাম্, জ্ঞানী, নিত্যযুক্তঃ, একভক্তিঃ,
বিশিষ্যতে,
প্রিয়োঃ, হি, জ্ঞানিনঃ, অতি-অর্থম্,
অহম্, সঃ, চ, মম, প্রিয়ঃ ॥১৭॥
অর্থ:-
এই চার প্রকার ভক্তের মধ্যে নিত্যযুক্ত, আমাতে একনিষ্ঠ
তত্ত্বজ্ঞানীই শ্রেষ্ঠ। কেন না আমি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় এবং তিনিও আমার অত্যন্ত
প্রিয়।
শ্লোক:18:
উদারাঃ সর্ব এবৈতে জ্ঞানী ত্বাত্মৈব মে মতম্ ।
আস্থিতঃ স হি যুক্তাত্মা মামেবানুত্তমাং গতিম্ ॥১৮॥
উদারাঃ, সর্বে, এব, এতে, জ্ঞানী,
তু,
আত্মা, এব, মে, মতম্,
আস্থিতঃ, সঃ, হি, যুক্ত-আত্মা,
মাম্, এব, অনুত্তমাম্, গতিম্ ॥১৮॥
অর্থ:-
এই সকল ভক্তেরা সকলেই নিঃসন্দেহে মহাত্মা, কিন্তু যে জ্ঞানী আমার
তত্ত্বজ্ঞানে অধিষ্ঠিত,
আমার মতে তিনি আমার আত্মস্বরূপ৷ আমার অপ্রাকৃত সেবায় যুক্ত
হয়ে তিনি সর্বোত্তম গতিস্বরূপ আমাকে লাভ করেন।
শ্লোক:19:
বহূনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মাং প্রপদ্যতে।
বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ ॥১৯॥
বহূনাম্, জন্মনাম্, অন্তে,
জ্ঞানবাম্, মাম্, প্রপদ্যতে,
বাসুদেবঃ, সর্বম্, ইতি, সঃ, মহাত্মা,
সুদুর্লভঃ ॥১৯॥
অর্থ:- বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার শরণাগত হন৷ সেইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।
শ্লোক:20:
কামৈস্তৈস্তৈর্হৃতজ্ঞানাঃ প্রপদ্যন্তেহন্যদেবতাঃ ।
তং তং নিয়মমাস্থায় প্রকৃত্যা নিয়তাঃ স্বয়া ॥২০॥
কামৈঃ, তৈঃ, তৈঃ, হৃতজ্ঞানাঃ,
প্রপদ্যন্তে, অন্য-দেবতাঃ,
তম্,
তম্,
নিয়মম্, আস্থায়, প্রকৃত্যা, নিয়তাঃ,
স্বয়া ॥২০॥
অর্থ:-জড়
কামনা-বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারা অন্য দেব-দেবীর
শরণাগত হয় এবং তাদের স্বীয় স্বভাব অনুসারে বিশেষ নিয়ম পালন করে দেবতাদের উপাসনা
করে।
শ্লোক:21:
যো যো যাং যাং তনুং ভক্তঃ শ্রদ্ধয়ার্চিতুমিচ্ছতি ।
তস্য তস্যাচলাং শ্রদ্ধাং তামেব বিদধাম্যহম্ ॥২১॥
যঃ যঃ যাম্, যাম্, তনুম্,
ভক্তঃ, শ্রদ্ধয়াঃ, অর্চিতুম্,
ইচ্ছতি,
তস্য, তস্য, অচলাম্, শ্রদ্ধাম্,
তাম্, এব, বিদধামি, অহম্ ॥২১॥
অর্থ:-
পরমাত্মারূপে আমি সকলের হৃদয়ে বিরাজ করি। যখনই কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে, তখনই আমি সেই সেই ভক্তের তাতেই অচলা শ্রদ্ধা বিধান করি ।
শ্লোক:22:
স তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্তস্তস্যারাধনমীহতে ।
লভতে চ ততঃ কামান্ময়ৈব বিহিতান্ হি তান্ ॥২২॥
সঃ,
তয়া, শ্রদ্ধয়া, যুক্তঃ,
তস্য, আরাধনম্, ঈহতে,
লভতে, চ, ততঃ, কামান্,
ময়া, এব, বিহিতান্, হি, তান্ ॥২২॥
অর্থ:-
সেই ব্যক্তি শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে
আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তু অবশ্যই লাভ করেন।
শ্লোক:23:
অন্তবত্তু ফলং তেষাং তদ্ ভবত্যল্পমেধসাম্ ।
দেবান্ দেবযজো যান্তি মদ্ভক্তা যান্তি মামপি ॥২৩॥
অন্তবৎ, তু, ফলম্, তেষাম্,
তৎ,
ভবতি, অল্পমেধসাম্,
দেবান্, দেবযজঃ, যান্তি, মদ্-ভক্তাঃ,
যান্তি, মাম্, অপি
॥২৩॥
অর্থ:-
অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের আরাধনা লব্ধ সেই ফল অস্থায়ী। দেবোপাসকগণ দেবলোক প্রাপ্ত হন, কিন্তু আমার ভক্তেরা আমার পরম ধাম প্রাপ্ত হন।
শ্লোক:24:
অব্যক্তং ব্যক্তিমাপন্নং মন্যন্তে মামবুদ্ধয়ঃ ।
পরং ভাবমজানন্তো মমাব্যয়মনুত্তমম্ ॥২৪॥
অব্যক্তম্, ব্যক্তিম্, আপন্নম্,
মন্যন্তে, মাম্, অবুদ্ধয়ঃ,
পরম্, ভাবম্, অজানন্তঃ, মম, অব্যয়ম্,
অনুত্তমম্ ॥২৪॥
অর্থ:-
বুদ্ধিহীন মানুষেরা,
যারা আমাকে জানে না, মনে করে যে, আমি পূর্বে অব্যক্ত নির্বিশেষ ছিলাম, এখন ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ
করেছি। তাদের অজ্ঞতার ফলে তারা আমার অব্যয় ও সর্বোত্তম পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত
নয়।
শ্লোক:25:
নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ ।
মূঢ়োহয়ং নাভিজানাতি লোকো মামজমব্যয়ম্ ॥২৫॥
ন,
অহম্, প্রকাশঃ, সর্বস্য, যোগমায়াসমাবৃতঃ,
মূঢ়ঃ, অয়ম্, ন, অভিজানাতি,
লোকঃ, মাম্, অজম্, অব্যয়ম্ ॥২৫॥
অর্থ:-
আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার
অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি৷ তাই, তাঁরা
আমার অজ ও অব্যয় স্বরূপকে জানতে পারে না।
শ্লোক:26:
বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন ।
ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন ॥২৬॥
বেদ,
অহম্, সম্-অতীতানি, বর্তমানানি,
চ,
অর্জুন,
ভবিষ্যাণি, চ, ভূতানি, মাম্,
তু,
বেদ,
ন,
কঃ-চন ॥২৬॥
অর্থ:-
হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।
শ্লোক:27:
ইচ্ছাদ্বেষসমুত্থেন দ্বন্দ্বমোহেন ভারত ।
সর্বভূতানি সম্মোহং সর্গে যান্তি পরন্তপ ॥২৭॥
ইচ্ছা-দ্বেষ-সমুত্থেন, দ্বন্দ্ব-মোহেন, ভারত,
সর্বভূতানি, সম্মোহম্, সর্গে,
যান্তি, পরন্তপ ॥২৭॥
অর্থ:-
হে ভারত ! হে পরন্তপ ! ইচ্ছা ও দ্বেষ থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্বের দ্বারা বিভ্রান্ত
হয়ে সমস্ত জীব মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
শ্লোক:28:
যেষাং ত্বন্তগতং পাপং জনানাং পুণ্যকর্মণাম্ ।
তে দ্বন্দ্বমোহনির্মুক্তা ভজন্তে মাং দৃঢ়ব্রতাঃ ॥২৮॥
যেষাম্, তু, অন্তগতম্, পাপম্,
জনানাম্, পুণ্যকর্মণাম্,
তে,
দ্বন্দ্বমোহ-নির্মুক্তাঃ, ভজন্তে, মাম্,
দৃঢ়ব্রতাঃ ॥২৮॥
অর্থ:-
যে সমস্ত পুণ্যবান ব্যক্তির পাপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়েছে এবং যাঁরা
দ্বন্দ্বমোহ থেকে মুক্ত হয়েছেন, তাঁরা দৃঢ় নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ভজনা
করেন।
শ্লোক:29:
জরামরণমোক্ষায় মামাশ্রিত্য যতন্তি যে ।
তে ব্রহ্ম তদ্ বিদুঃ কৃৎস্নমধ্যাত্মং কর্ম চাখিলম্ ॥২৯॥
জরা-মরণ-মোক্ষায়, মাম্, আশ্রিত্য,
যতন্তি, যে,
তে,
ব্রহ্ম, তৎ, বিদুঃ, কৃৎস্নম্,
অধ্যাত্মম্, কর্ম, চ, অখিলম্ ॥২৯॥
অর্থ:-
যে সমস্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি জরা ও মৃত্যু থেকে মুক্তি লাভের জন্য আমাকে আশ্রয় করে
যত্ন করেন,
তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মভূত, কেন
না তাঁরা অধ্যাত্মতত্ত্ব ও কর্মতত্ত্ব সব কিছু সম্পূর্ণরূপে অবগত।
শ্লোক:30:
সাধিভূতাধিদৈবং মাং সাধিযজ্ঞং চ যে বিদুঃ ।
প্রায়াণকালেহপি চ মাং তে বিদুর্যুক্তচেতসঃ ॥৩০॥
স-অধিভূত-অধিদৈবম্, মাম্, স-অধিযজ্ঞম্,
চ,
যে,
বিদুঃ,
প্রায়াণকালে, অপি, চ, মাম্,
তে,
বিদুঃ, যুক্তচেতসঃ ॥৩০॥
অর্থ:-
যাঁরা অধিভূত-তত্ত্ব,
অধিদৈব-তত্ত্ব ও অধিযজ্ঞ-তত্ত্ব সহ আমাকে পরমেশ্বর ভগবান
বলে অবগত হন,
তাঁরা আমাতে আসক্তচিত্ত, এমন কি মরণকালেও আমাকে
জানতে পারেন।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে
শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'জ্ঞানবিজ্ঞানযোগো' নাম সপ্তমোঽধ্যায়ঃ ॥৭॥
.jpeg)