সাধারণ মানুষের ভাবনা

সাধারণ মানুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভালবাসে, তার নাম, গুন, লীলা শ্রবন ও তার নাম জপ কীর্তন করে। তারা বেদশাস্ত্র বর্নিত ধ্যান, যোগাসন, যজ্ঞ ও জ্ঞানযোগ বুঝে না।

শ্রীউদ্ধব সাধারণ ভক্তদের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করেছিলেন— “ হে ভগবান অচ্যুত, সাধারণ ব্যক্তিদের জন্য শাস্ত্রে বর্ণিত যোগ পদ্ধতি বড়ই দুঃসাধ্য । সেইজন্য মানুষ যাতে আরও সহজে ধর্ম পালন করতে পারে , এইরূপ সরল ভাবে এই বিষয়ে আমার নিকট বর্ণনা করুন ?

উত্তরে মৃদ হেসে ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বললেন প্রিয় উদ্ধব , " সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ক্রন্দন করে , ভয় পায় এবং অনুশোচনা করে — এই সমস্ত অনর্থক ভাবাবেগের ফলে পরিস্থিতির কিন্তু কোন পরিবর্তন হয় না । অথচ নিঃস্বার্থভাবে আমার প্রতি অর্পিত কাৰ্য , বাহ্যিকভাবে নিরর্থক মনে হলেও , তা যথার্থ ধর্মের সমতুল্য । ভক্তিযোগ পদ্ধতি হচ্ছে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর ব্যক্তিদের চাতুর্য , কেননা তা অনুসরণ করার ফলে জীব এই জীবনেই ক্ষণস্থায়ী এবং অবাস্তব বস্তু ব্যবহার করার মাধ্যমে আমাকে লাভ করতে পারে । এইভাবে আমি তোমার নিকট সংক্ষেপে এবং বিস্তারিতভাবে পরম সত্য বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ বিবরণ প্রদান করলাম । এমনকি দেবতাদের জন্যও এই বিজ্ঞান অত্যন্ত দুর্বোধ্য জ্ঞানের কথা বর্ণনা করলাম । স্পষ্টযুক্তি সহকারে বার বার আমি তোমার নিকট এই যে কেউ এই বিষয়ে সুষ্ঠুভাবে উপলব্ধি করতে পারলে , সমস্ত সন্দেহ শূন্য হয়ে → সে মুক্তি লাভ করবে" । 

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আরো বললেন, 

👉এক, তোমার প্রশ্নের এই সুস্পষ্ট উত্তরের প্রতি যে কেউ মনোনিবেশ করলে , সে সনাতন বেদের গোপনীয় উদ্দেশ্য — পরম অবিমিশ্র সত্যকে লাভ করবে । 

👉দুই, যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে গীতার  জ্ঞান প্রদান করেন , তিনি হচ্ছেন ব্রহ্মজ্ঞান প্রদাতা , আর তার নিকট আমি নিজেকেই প্রদান করি । 

👉তিন, যে ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে এই পরম নির্মল এবং শুদ্ধতাপ্রদ পরম জ্ঞান প্রচার করে , সে দিব্যজ্ঞানের বর্তিকার দ্বারা অন্যদের নিকট আমাকে প্রকাশ করার ফলে দিনে দিনে পবিত্র হয় । 

👉চার, যে কেউ সর্বক্ষণ আমার শুদ্ধ ভক্তিতে নিয়োজিত হয়ে শ্রদ্ধা এবং মনোযোগ সহকারে নিয়মিতভাবে গীতার জ্ঞান শ্রবণ করবে ,সে ব্যক্তি কখনো জড় কর্মবন্ধনে আবদ্ব হবে না।

মৃত্যুর পর সে আমার সান্নিধ্য লাভ করেন"।। হরেকৃষ্ণ।।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post