রাঁধা অষ্টমী কি?

বৈশ্য কুলোদ্ভব বৃষ ভানু গোকুলের রাজা ছিলেন। পরম ধার্মিক রাজা ও তাঁর পত্নী ভগবদ নিষ্ঠ কীর্তিদা সন্তান লাভের জন্য বহু তপস্যা করেন। কিন্তু তাঁদের আশা পূর্ণ হল না। শেষে বৃন্দাবনের যমুনা তীরস্থ ৫১ সতী পীঠের অন্যতম কাত্যায়নী পীঠে বৃষ ভানু জগন্মাতার কঠোর তপস্যায় ব্রতী হন। ১০০ বছর পর দেবী আকাশবাণীর মাধ্যমে রাজাকে ভুবন মঙ্গল হরিনাম গ্রহন করে তারপর দেবী উপাসনা করতে আদেশ দেন। রাজা সে আদেশ মেনে “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে”— এই মহামন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে আদ্যাশক্তির উপাসনায় ব্রতী হলেন। অল্পদিন পর মহাদেবী আবির্ভূত হয়ে রাজাকে এক সহস্র সূর্য তুল্য ডিম দান করলেন। রাজা এটি রানীর হাতে তুলে দেবামাত্রই সেই দিব্য ডিম হতে কোটি সূর্যের প্রভাযুক্ত ,অর্ধচন্দ্র শোভিত,বিশাল নয়না, দিব্যগন্ধ-মাল্য-অলঙ্কার ভূষিত , অষ্টভুজা রাধারানীর আবির্ভাব ঘটল।বাৎসল্য ভাবের পুষ্টির জন্য এরপর তিনি দ্বিভুজ কন্যায় পরিণত হলেন। সেই দিন টি ছিল ভাদ্র শুক্লা অষ্টমী তিথি যা ত্রিলোকে রাধাষ্টমী নামে খ্যাত হল।রাজদম্পতি ভগবতী রাধারানীর কৃপায় জানলেন যে বিশ্বেশ্বরী জগন্মাতাই তাঁর গৃহে কন্যা রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।

এই পুন্য তিথিতে রাজা বৃষ ভানু কৃত রাধা স্তুতি উদ্ধৃত করে বলি,

” হে বিশ্বেশ্বরী, বিশ্বেশ্বর পূজিত তোমার যে পাদপদ্ম আমি সেই চরণে প্রনত হই। ব্রমহা,হরি,শিব,ইন্দ্র—এই সব মূর্তি তোমারি। তুমি ভিন্ন জগতে আর অন্য বস্তু নেই। জগত ভ্রান্তি মাত্র। হে মাতঃ, কৃপা করে আমাকে নিজ দাস জেনে অনুগ্রহ করো।”

সমগ্র পৃথিবীর শ্রী কৃষ্ণ ভক্তবৃন্দের কাছে শ্রী রাঁধা অষ্টমী বা রাঁধা অষ্টমী (রাঁধার জন্ম তিথি) অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। ভাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের অষ্টম দিনে বা তিথিতে রাঁধা অষ্টমী পালিত হয়ে থাকে। এই দিনটিত ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও রাঁধার ভালবাসার দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। একই সাথে ভগবান এবং মানবের মধ্যেকার সম্পর্কের নিদর্শন হিসাবেও পালিত হয়ে থাকে। উত্তর ভারতের মন্দিরগুলোতে রাঁধা অষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়ে থাকে। রাঁধা অষ্টমীর সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয়ে থাকে মথুরা ও বৃন্দাবনে এছাড়াও ইসকনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে দিনটি পালিত হয়ে থাকে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post