এক সাধু তাঁর আশ্রমে বসে ভক্তদেরকে কৃষ্ণ কথা শোনাচ্ছিলেন। এমন সময় এক যুবক সাধুকে থামিয়ে দিয়ে বলল, "আরে বাবা,পুজা-পাঠ এসব কি আমাদের মত যৌবন বয়সের কাজ নাকি ?
এসব তো যত্ত সব বুড়োবুড়ির কাজ। বুড়ো হয়ে লোকে আর কি করবে ? তাই এইসব তখনকার জন্য রেখে দেওয়াই ভাল। তোমার কি কোন কাজ নেই নাকি, কেন যে যত ভাল ভাল মানুষের মাথা নষ্ট করে ফালতু কাজে লাগাচ্ছ কে জানে ? "
সাধুবাবা সব শুনে স্মিত হাসলেন। তারপর বললেন, "হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। একদম খাঁটি কথা। কিন্তু মানুষের জীবনে বার্ধক্য কেন আসে ? জান তুমি ?
লোকটি বলল, "কেন আসবে আবার, বয়সবাড়লেই বার্ধক্য আসে, এটাইতো নিয়ম।"
সাধুবাবা বললেন, " তুমিতো মুখস্থ পাঠ করলে। আসল কারণ তো তুমি জান না। তাহলে শোন-
বার্ধক্য মানেই হচ্ছে বাঁধা। যখন এই বাঁধা তোমার জীবনে আসবে তখন তুমি পূজা,অর্চনা , কৃষ্ণ কথা শুনবে ভাবছ ?
আরে বাবা, যখন তোমার নাক দিয়ে নলের মত স্রোত পড়বে, লাঠির বাড়ি খাবে, কাশতে কাশতে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর জন্য দিন গুনবে , তখন তুমি কৃষ্ণ কথা শুনবে ?
তখন তো ছোট ছোট কথায় সবার বকা খাবে, না নিজে শান্তিতে খেতে পারবে, না কাউকে শান্তিতে খেতে দেবে। না নিজে কোথাও যেতে পারবে, না কাউকে কোথাও যেতে দেবে। এভাবে বিছানায় পড়ে থেকে থেকে যখন মৃত্যুর জন্য দিন গুনবে আর ভাববে, ইশ্ যদি একটু মন্দিরে যেতে পারতাম, যদি একটু হরিনাম শুনতে পারতাম ?
আরে মুর্খ! বৃদ্ধ বয়সে এসব তুমি কার ভরসায় করবে যদি নিজের গায়েই শক্তি অবশিষ্ট না থাকে ?
তাই, জীবনে বার্ধক্য আসুক, এটা কখনও কামনা করো না। কামনা শুধু এই টুকুই করো যে, জীবনের যে কয়টি বছর, যে কয়টি দিন বা যে কয়টি মুহুর্ত বেঁচে থাকতে হয়, তার প্রতিটি ক্ষন যেন শ্রীকৃষ্ণ স্মরণে বা কৃষ্ণ সেবায় কাটে। এক কথায়, কৃষ্ণের সাথেই কাটে। এবার তুমি নিজেই চিন্তা কর কি করবে, এখন থেকেই কি কৃষ্ণের সাথী হবে ? না বিছানায় পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ?