একদিন মা যশোদা ভাবলেন আমার গৃহে এত দধি মাখন থাকতে গোপাল কেন অন্যর ঘরে মাখন চুরি করতে যায় ?
এসব ভেবে, মা যশোদা ঠিক করলেন আজ নিজ হাতে দধি মন্থন করে আমি গোপালকে খাওয়াবো। এদিকে ছোট গোপাল ঘরে ঘুমোচ্ছে। হঠাৎ গোপাল এর ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং গোপাল দুই হাত দিয়ে চক্ষু মার্জন করতে করতে মা এর কোলে এসে বসলেন। মাও পরম যতনে গোপালকে কোলে বসিয়ে আদর করতে লাগলেন। হঠাৎ মা লক্ষ্য করলেন চুলার উপর বসানো দুধ উতলে পরছে। তিনি গোপাল কে কোল থেকে নামিয়ে দ্রুত চলে গেলেন দুধ নামাতে। অন্য দিকে গোপাল তো রেগে আগুন। আমার থেকে কাজ তোমার বেশী বড় হলো ? মা এর উপর রেগে গিয়ে গোপাল দধির ভান্ড ভেঙ্গে ফেললেন। এদিকে গোপাল এর কান্ড দেখে মা রেগে গিয়ে গোপাল এর কটিদেশ বন্ধন করে একটি উদুখলের সাথে বেঁধে রাখবেন বলে স্থির করলেন। দড়ি যোগার করে মা গোপালের নিকট গেলেন। কিন্তু মা দেখলেন দড়ি দিয়ে গোপাল এর কটিদেশ বন্ধন করতে গিয়ে দুই আঙ্গুল দড়ি কম পরল। এবার গোপাল কে বাঁধতে না পেরে মা আরও দড়ি যোগ করলেন। কিন্তু তাতেও মা যশোদা গোপাল এর কটিদেশ বন্ধন করতে পারলেন না। ব্রজবাসীর গৃহ থেকে আরও দড়ি এনে যোগ করলেন গোপালকে বাঁধতে। কিন্তু হায় ।
প্রতিবারই দুই আঙ্গুল কম পরতে লাগলো। মা যশোদা তো বাৎসল্য রসে বিভোর। কিন্তু যিনি অনন্ত কোটি ব্রহ্মান্ডের মালিক তিনি নিজে ধরা না দিলে কি আর তাকে ধরা যায় ? গোপাল ভাবলেন যে, মায়ের কত কষ্ট হচ্ছে। মা এর ঘাম হচ্ছে। আমি মাকে কত কষ্ট দিচ্ছি। এটা তো ঠিক নয়। তাই এবার প্রাণ গোপাল তাঁর মায়ের দড়ি বন্ধন শিকার করলেন। আর তখন মা তাকে বাঁধতে পারলেন।
কিন্তু বারবার এই দুই আঙ্গুল কম পরার কারন কি ?
কারন হলো এই এক আঙ্গুল হলো ভক্তের সাধনা,আর এক আঙ্গুল হলো ভগবানের করুনা। ভক্ত সাধনা করে উপরে উঠে যাবে আর ভগবান করুনা করে নিচে নেমে আসবেন। মিলন হবে হৃদয় মন্দিরে। আমাদের যদি চেষ্টা_থাকে তবে ভগবান আমাদের করুনা করবেন। আমরা এক পা এগোলে ভগবান দশ পা এগিয়ে আসবেন তাই সাধু, গুরু বৈষ্ণবের চরনধুলি শিরে নিয়ে আমাদের সাধনায় মনোনিবেশ করতে হবে। আমরা সাধনা করে এগোলেই ভগবান করুনা করে কাছে ডেকে নিবেন। তবেই আমাদের দুর্লভ মানব জনম হবে ধন্য।
.jpeg)