সিদ্ধিদাত্রীর কথা

সিদ্ধগন্ধর্বযক্ষাধৈর সুরৈর মরৈরপি।
সেব্যমানা সদা ভুয়াৎ সিদ্ধিদা সিদ্ধিদায়িনী।।

দেবীপক্ষের অন্তিমদিনে, অর্থাৎ নবমদিনে শ্রীদুর্গা সিদ্ধিদাত্রীমূর্তিতে আবির্ভূতা হন।সকল সৎ প্রচেষ্টার উদযাপনে যেমন কার্যসিদ্ধি হয়, তেমনি ৯ দিন ব্যাপী এই নবরাত্র পূজনের শেষে মহানবমী তিথিতে তাই সিদ্ধি বা সাফল্যলাভ হেতু দেবী সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা।মায়ের নামটি থেকে স্পষ্ট যে তিনি সকল সিদ্ধির স্বামিনী।সিদ্ধিরা এনাকে আশ্রয় করেন,তাইইনি "সিদ্ধেশ্বরী" নামেও প্রসিদ্ধা।সমস্ত প্রকার সিদ্ধি প্রদানে তিনি সমর্থ,তাই তিনি "সিদ্ধিদাত্রী"।কথিত আছে,ভগবান শিব যুগযুগান্ত যাবৎ তপস্যা করেও সিদ্ধিলাভ করতে অসফল হয়েছিলেন। এমতবস্থায় ভগবান শ্রীহরি সিদ্ধিলাভের পন্থা হিসেবে মহাদেবকে এই সিদ্ধিদাত্রী শক্তির উপাসনা করতে নির্দেশদেন।নারায়ণের কথানুযায়ী মহাদেবে দেবীর বীজমন্ত্র উচ্চারণে তপস্যায় বসলে অচিরেই মহামায়া অম্বিকা প্রীত হলেন এবং সিদ্ধিদাত্রী রূপে দেখাদিয়ে মহাদেবকে সর্বসিদ্ধির অধীশ্বর হওার বর দিলেন।দেবীর করুণাবলেই শিব সিদ্ধিনাথ বা সিদ্ধেশ্বর।বিভিন্নশাস্ত্রে বিবিধ সিদ্ধির কথা উল্লেখিত হয়েছেমার্কণ্ডেয় পুরাণে অষ্টসিদ্ধির কথা বলা হয়েছে।বলা হয়েছে, সিদ্ধি আট প্রকারের-অণিমা, মহিমা, গরিমা, লঘিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য,ঈশিত্ব ও বশিত্ব।ভাগবত আদিপুরাণে আবার সিদ্ধির সংখ্যা অষ্টাদশ।দেবী সন্তুষ্টা হলে সাধক এইসকল সিদ্ধি ও নিধির ধারক হয়ে ওঠে।জগতের কোন কিছুই তখন তারপক্ষে আর অসম্ভব নয়।অষ্টমাতৃকাদের অন্যতম দেবী বৈষ্ণবীর রূপের সঙ্গে দেবী সিদ্ধিদাত্রী রূপের সাদৃশ্য রয়েছে।বৈষ্ণবী চতুর্ভুজা,সিদ্ধিদাত্রীও তদ্রূপ চতুর্বাহু সমন্বিতা।বৈষ্ণবী শঙ্খ-চক্র-গদা ধারিণী, সিদ্ধিদাত্রীও একইরকম আয়ুধ ধারণ করেন।তবে বৈষ্ণবীর হস্তে পদ্ম অদৃশ্য এবং তিনি গরুড়বাহনা, সিদ্ধিদাত্রী হস্তে কমল ধারণ করেন এবং তিনি পদ্মাসনা।দেব,দানব,মানব,গন্ধর্ব, যক্ষ, কিন্নর, নাগ এবং অন্যান্য জীবগণ,সিদ্ধিকামী গণ,যোগীগণ সকলেই অহর্নিশ মা সিদ্ধিদাত্রীর সেবায় তৎপর থাকেন।।
-সংগৃহীত
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post