অর্জুন উবাচ
জ্যায়সী চেৎ
কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন ।
তৎ কিং কর্মণি ঘোরে
মাং নিয়োজয়সি কেশব ॥১॥
জ্যায়সী, চেৎ, কর্মণঃ, তে, মতা, বুদ্ধিঃ, জনার্দন ,
তৎ, কিম্, কর্মণি, ঘোরে, মাম্, নিয়োজয়সি, কেশব ॥১॥
অর্থ:- অর্জুন
বললেন-হে জনার্দন ! হে কেশব ! যদি তোমার মতে কর্ম অপেক্ষা ভক্তি-বিষয়িনী বুদ্ধি
শ্রেয়তর হয়, তা হলে এই
ভয়ানক যুদ্ধে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কেন আমাকে প্ররোচিত করছ ?
শ্লোক:2:
ব্যামিশ্রেণেব
বাক্যেন বুদ্ধিং মোহয়সীব মে ।
তদেকং বদ নিশ্চিত্য
যেন শ্রেয়োহহমাপ্নুয়াম্ ॥২॥
ব্যামিশ্রেণে, ইব, বাক্যেন, বুদ্ধিম্, মোহয়সি, ইব, মে,
তৎ, একম্, বদ, নিশ্চিত্য, যেন, শ্রেয়ঃ, অহম্, আপ্নুয়াম্ ॥২॥
অর্থ:- তুমি যেন
দ্ব্যর্থবোধক বাক্যের দ্বারা আমার বুদ্ধি বিভ্রান্ত করছ। তাই, দয়া করে আমাকে
নিশ্চিতভাবে বল কোনটি আমার পক্ষে সবচেয়ে শ্রেয়স্কর।
শ্লোক:3:
শ্রীভগবানুবাচ
লোকেহস্মিন্
দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা ময়ানঘ ।
জ্ঞানযোগেন
সাংখ্যানাং কর্মযোগেন যোগিনাম্ ॥৩॥
লোকে, অস্মিন্, দ্বিবিধা, নিষ্ঠা, পুরা, প্রোক্তা, ময়া, অনঘ,
জ্ঞানযোগেন, সাংখ্যানাম্, কর্মযোগেন, যোগিনাম্ ॥৩॥
অর্থ:- পরমেশ্বর
ভগবান বললেন-হে নিষ্পাপ অর্জুন ! আমি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি যে, দুই প্রকার মানুষ
আত্ম-উপলব্ধি করতে চেষ্টা করে। কিছু লোক অভিজ্ঞতালব্ধ দার্শনিক জ্ঞানের আলোচনার
মাধ্যমে নিজেকে জানতে চান এবং অন্যেরা আবার তা ভক্তির মাধ্যমে জানতে চান।
শ্লোক:4:
ন কর্মণামনারম্ভান্
নৈষ্কর্ম্যং পুরুষোহশ্নুতে ।
ন চ সন্ন্যসনাদেব
সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি ॥৪॥
ন, কর্মণাম্, অনারম্ভাৎ, নৈষ্কর্ম্যম্, পুরুষঃ, অশ্নুতে,
ন, চ, সন্ন্যসনাৎ, এব, সিদ্ধিম্, সমধিগচ্ছতি ॥৪॥
অর্থ:- কেবল কর্মের
অনুষ্ঠান না করার মাধ্যমে কর্মফল থেকে মুক্ত হওয়া যায় না, আবার কর্মত্যাগের
মাধ্যমেও সিদ্ধি লাভ করা যায় না।
শ্লোক:5:
ন হি কশ্চিৎ
ক্ষণমপি জাতু তিষ্টত্যকর্মকৃৎ ।
কার্যতে হ্যবশঃ
কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈর্গুণৈঃ ॥৫॥
ন, হি, কশ্চিৎ, ক্ষণম্, অপি, জাতু, তিষ্টতি, অকর্মকৃৎ,
কার্যতে, অবশঃ, কর্ম, সর্বঃ, প্রকৃতিজৈঃ, গুণৈঃ ॥৫॥
অর্থ:- সকলেই
মায়াজাত গুণসমূহের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অসহায়ভাবে কর্ম করতে বাধ্য হয়; তাই কর্ম না করে
কেউই ক্ষণকালও থাকতে পারে না।
শ্লোক:6:
কর্মেন্দ্রিয়াণি
সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্ ।
ইন্দ্রিয়ার্থান্
বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে ॥৬॥
কর্মেন্দ্রিয়াণি, সংযম্য, যঃ, আস্তে, মনসা, স্মরন্,
ইন্দ্রিয়ার্থান্, বিমূঢ়াত্মা, মিথ্যাচারঃ, সঃ, উচ্যতে ॥৬॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি
পঞ্চ-কর্মেন্দ্রিয় সংযত করেও মনে মনে শব্দ,
রস আদি ইন্দ্রিয়গুলি স্মরণ করে,
সেই মূঢ় অবশ্যই নিজেকে বিভ্রান্ত করে এবং তাকে মিথ্যাচারী ভণ্ড বলা হয়ে থাকে
।
শ্লোক:7:
যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি
মনসা নিয়ম্যারভতেহর্জুন ।
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ
কর্মযোগমসক্তঃ সঃ বিশিষ্যতে ॥৭॥
যঃ, তু, ইন্দ্রিয়াণি, মনসা, নিয়ম্য, আরভতে, অর্জুন,
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ, কর্মযোগম্, অসক্তঃ, সঃ, বিশিষ্যতে ॥৭॥
অর্থ:- কিন্তু যিনি
মনের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করে অনাসক্তভাবে কর্মযোগের অনুষ্ঠান করেন, তিনি পূর্বোক্ত
মিথ্যাচারী অপেক্ষা অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ ।
শ্লোক:8:
নিয়তং কুরু কর্ম
ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ ।
শরীরযাত্রাপি চ তে
ন প্রসিদ্ধ্যেদকর্মণঃ ॥৮॥
নিয়তম্, কুরু, কর্ম, ত্বম্, কর্ম, জ্যায়ঃ, হি, অকর্মণঃ ।
শরীরযাত্রা, অপি, চ, তে, ন, প্রসিদ্ধ্যেৎ, অকর্মণঃ ॥৮॥
অর্থ:- তুমি
শাস্ত্রোক্ত কর্মের অনুষ্ঠান কর,
কেন না কর্মত্যাগ থেকে কর্মের অনুষ্ঠান শ্রেয়। কর্ম না করে কেউ দেহযাত্রাও
নির্বাহ করতে পারে না।
শ্লোক:9:
যজ্ঞার্থাৎ
কর্মণোহন্যত্র লোকোহয়ং কর্মবন্ধনঃ ।
তদর্থং কর্ম
কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর ॥৯॥
যজ্ঞার্থাৎ, কর্মণঃ, অন্যত্র, লোকঃ, অয়ম্, কর্মবন্ধনঃ,
তদর্থম্, কর্ম, কৌন্তেয়, মুক্তসঙ্গঃ, সমাচর ॥৯॥
অর্থ:- বিষ্ণুর
প্রীতি সম্পাদন করার জন্য কর্ম করা উচিত;
তা না হলে কর্মই এই জড় জগতে বন্ধনের কারণ। তাই, হে কৌন্তেয় ! ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই কেবল তুমি
তোমার কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান কর এবং এভাবেই তুমি সর্বদাই বন্ধন থেকে মুক্ত থাকতে
পারবে।
শ্লোক:10:
সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ
সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ ।
অনেন
প্রসবিষ্যধ্বমেষ বোহস্ত্বিষ্টকামধুক্ ॥১০॥
সহযজ্ঞাঃ, প্রজাঃ, সৃষ্ট্বা, পুরা, উবাচ, প্রজাপতিঃ,
অনেন, প্রসবিষ্যধ্বম্, এষঃ, বঃ, অস্তু, ইষ্টকামধুক্ ॥১০॥
অর্থ:- সৃষ্টির
প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা যজ্ঞাদি সহ প্রজাসকল সৃষ্টি করে বলেছিলেন- "এই যজ্ঞের
দ্বারা তোমরা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হও ৷ এই যজ্ঞ তোমাদের সমস্ত অভীষ্ট পূর্ণ
করবে।"
শ্লোক:11:
দেবান্ ভাবয়তানেন
তে দেবা ভাবয়ন্ত্ত বঃ ।
পরস্পরং ভাবয়ন্তঃ
শ্রেয়ঃ পরমবাপ্স্যথ ॥১১॥
দেবান্, ভাবয়ত, অনেন, তে, দেবাঃ, ভাবয়ন্ত্ত, বঃ,
পরস্পরম্, ভাবয়ন্তঃ, শ্রেয়ঃ, পরম্, অবাপ্স্যথ ॥১১॥
অর্থ:- তোমাদের
যজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রীত হয়ে দেবতারা তোমাদের প্রীতি সাধন করবেন। এভাবেই পরস্পরের
প্রীতি সম্পাদন করার মাধ্যমে তোমরা পরম মঙ্গল লাভ করবে।
শ্লোক:12:
ইষ্টান্ ভোগান্ হি
বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ ।
তৈর্দত্তানপ্রদায়ৈভ্যো
যো ভুঙক্তে স্তেন এব সঃ ॥১২॥
ইষ্টান্, ভোগান্, হি, বঃ, দেবাঃ, দাস্যন্তে, যজ্ঞভাবিতাঃ,
তৈঃ, দত্তান্, অপ্রদায়, এভ্যঃ, যঃ, ভুঙক্তে, স্তেনঃ, এব, সঃ ॥১২॥
অর্থ:- যজ্ঞের ফলে
সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা তোমাদের বাঞ্ছিত ভোগ্যবস্তু প্রদান করবেন। কিন্তু দেবতাদের
প্রদত্ত বস্তু তাঁদের নিবেদন না করে যে ভোগ করে, সে নিশ্চয়ই চোর।
শ্লোক:13:
যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ
সন্তো মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ ।
ভুঞ্জতে তে ত্বঘং
পাপা যে পচন্ত্যাত্মকারণাৎ ॥১৩॥
যজ্ঞ-শিষ্ট-আশিনঃ, সন্তঃ, মুচ্যন্তে, সর্ব-কিল্বিষৈঃ,
ভুঞ্জতে, তে, তু, অঘম্, পাপাঃ, যে, পচন্তি, আত্মকারণাৎ ॥১৩॥
অর্থ:-
ভগবদ্ভক্তেরা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন,
কারণ তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অন্নাদি গ্রহণ করেন। যারা কেবল স্বার্থপর হয়ে নিজেদের
ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তির জন্য অন্নাদি পাক করে,
তারা কেবল পাপই ভোজন করে।
শ্লোক:14:
অন্নাদ্ ভবন্তি
ভূতানি পর্জন্যাদন্নসম্ভবঃ ।
যজ্ঞাদ্ ভবতি
পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ ॥১৪॥
অন্নাৎ, ভবন্তি, ভূতানি, পর্জন্যাৎ, অন্নসম্ভবঃ,
যজ্ঞাৎ, ভবতি, পর্জন্যঃ, যজ্ঞঃ, কর্মসমুদ্ভবঃ ॥১৪॥
অর্থ:- অন্ন খেয়ে
প্রাণীগণ জীবন ধারণ করে৷ বৃষ্টি হওয়ার ফলে অন্ন উৎপন্ন হয় ৷ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার
ফলে বৃষ্টি উৎপন্ন হয় এবং শাস্ত্রোক্ত কর্ম থেকে যজ্ঞ উৎপন্ন হয়।
শ্লোক:15:
কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং
বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্ ।
তস্মাৎ সর্বগতং
ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্ ॥১৫॥
কর্ম, ব্রহ্ম-উদ্ভবম্, বিদ্ধি, ব্রহ্ম, অক্ষর-সমুদ্ভবম্,
তস্মাৎ, সর্বগতম্, ব্রহ্ম, নিত্যম্, যজ্ঞে, প্রতিষ্ঠিতম্ ॥১৫॥
অর্থ:- যজ্ঞাদি
কর্ম বেদ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং বেদ অক্ষর বা পরমেশ্বর ভগবান থেকে প্রকাশিত
হয়েছে। অতএব সর্বব্যাপক ব্রহ্ম সর্বদা যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
শ্লোক:16:
এবং প্রবর্তিতং
চক্রং নানুবর্তয়তীহ যঃ ।
অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামো
মোঘং পার্থ স জীবতি ॥১৬॥
এবম্, প্রবর্তিতম্, চক্রম্, ন, অনুবর্তয়তি, ইহ যঃ,
অঘায়ুঃ, ইন্দ্রিয়ারামঃ, মোঘম্, পার্থ, সঃ, জীবতি ॥১৬॥
অর্থ:- হে অর্জুন !
যে ব্যক্তি এই জীবনে বেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যজ্ঞ অনুষ্ঠানের পন্থা অনুসরণ করে না, সেই
ইন্দ্রিয়সুখ-পরায়ণ পাপী ব্যক্তি বৃথা জীবন ধারণ করে।
শ্লোক:17:
যস্ত্বাত্মরতিরেব
স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ ।
আত্মন্যেব চ
সন্ত্তষ্টস্তস্য কার্যং ন বিদ্যতে ॥১৭॥
যঃ, তু, আত্মরতিঃ, এব, স্যাৎ, আত্মতৃপ্তঃম, চ, মানবঃ,
আত্মনি, এব, চ, সন্ত্তষ্টঃ, তস্য, কার্যম্, ন, বিদ্যতে ॥১৭॥
অর্থ:- কিন্তু যে
ব্যক্তি আত্মাতেই প্রীত, আত্মাতেই
তৃপ্ত আত্মাতেই সন্তুষ্ট, তাঁর কোন
কর্তব্যকর্ম নেই।
শ্লোক:18:
নৈব তস্য
কৃতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন ।
ন চাস্য সর্বভূতেষু
কশ্চিদর্থব্যপাশ্রয়ঃ ॥১৮॥
ন, এব, তস্য, কৃতেন, অর্থঃ, ন, অকৃতেন, ইহ, কঃ-চন,
ন, চ, অস্য, সর্বভূতেষু, কঃ-চিৎ, অর্থ-ব্যপাশ্রয়ঃ
॥১৮॥
অর্থ:- আত্মানন্দ
অনুভবকারী ব্যক্তির এই জগতে ধর্ম অনুষ্ঠানের কোন প্রয়োজন নেই এবং এই প্রকার কর্ম
না করারও কোন কারণ নেই। তাকে অন্য কোন প্রাণীর উপর নির্ভর করতেও হয় না।
শ্লোক:19:
তস্মাদসক্তঃ সততং
কার্যং কর্ম সমাচর ।
অসক্তো হ্যাচরন্
কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ ॥১৯॥
তস্মাৎ, অসক্তঃ, সততম্, কার্যম্, কর্ম, সমাচর,
অসক্তঃ, হি, আচরন্, কর্ম, পরম্, আপ্নোতি, পুরুষঃ ॥১৯॥
অর্থ:- অতএব, কর্মফলের প্রতি
আসক্তি রহিত হয়ে কর্তব্যকর্ম সম্পাদন কর৷ অনাসক্ত হয়ে কর্ম করার ফলেই মানুষ
পরতত্ত্বকে লাভ করতে পারে ৷
শ্লোক:20:
কর্মণৈব হি
সংসিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদয়ঃ ।
লোকসংগ্রহমেবাপি
সংপশ্যন্ কর্তুমর্হসি ॥২০॥
কর্মণা, এব, হি, সংসিদ্ধিম্, আস্থিতাঃ, জনকাদয়ঃ,
লোকসংগ্রহম্, এব, অপি, সংপশ্যন্, কর্তুম্, অর্হসি ॥২০॥
অর্থ:- জনক আদি
রাজারাও কর্ম দ্বারাই সংসিদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন ৷ অতএব, জনসাধারণকে শিক্ষা
দেওয়ার জন্য তোমার কর্ম করা উচিত।
শ্লোক:21:
যদ্ যদাচরতি
শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ ।
স যৎ প্রমাণং
কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে ॥২১॥
যৎ, যৎ, আচরতি, শ্রেষ্ঠঃ, তৎ, তৎ, এব, ইতরঃ, জনঃ,
সঃ, যৎ, প্রমাণম্, কুরুতে, লোকঃ, তৎ, অনুবর্ততে ॥২১॥
অর্থ:- শ্রেষ্ঠ
ব্যক্তি যে ভাবে আচরণ করেন,
সাধারণ মানুষেরা তার অনুকরণ করে। তিনি যা প্রমাণ বলে স্বীকার করেন, সমগ্র পৃথিবী তারই
অনুসরণ করে।
শ্লোক:22:
ন মে পার্থাস্তি
কর্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন ।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং
বর্ত এব চ কর্মণি ॥২২॥
ন, মে, পার্থ, অস্তি, কর্তব্যম্, ত্রিষু, লোকেষু, কিঞ্চন, ।
ন, অনবাপ্তম্, অবাপ্তব্যম্, বর্তে, এব, চ, কর্মণি ॥২২॥
অর্থ:- হে পার্থ !
এই ত্রিজগতে আমার কিছুই কর্তব্য নেই। আমার অপ্রাপ্ত কিছু নেই এবং প্রাপ্তব্যও কিছু
নেই৷ তবুও আমি কর্মে ব্যাপৃত আছি।
শ্লোক:23:
যদি হ্যহং ন
বর্তেয়ং জাতু কর্মণ্যতন্দ্রিতঃ ।
মম
বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥২৩॥
যদি, হি, অহম্, ন, বর্তেয়ম্, জাতু, কর্মণি, অতন্দ্রিতঃ,
মম, বর্ত্ম, অনুবর্তন্তে, মনুষ্যাঃ, পার্থ, সর্বশঃ ॥২৩॥
অর্থ:- হে পার্থ !
আমি যদি অনলস হয়ে কর্তব্যকর্মে প্রবৃত্ত না হই, তবে আমার অনুবর্তী হয়ে সমস্ত মানুষই কর্ম ত্যাগ করবে।
শ্লোক:24:
উৎসীদেয়ুরিমে লোকা
ন কুর্যাং কর্ম চেদহম্॥
সঙ্করস্য চ কর্তা
স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ॥২৪॥
উৎসীদেয়ুঃ, ইমে, লোকাঃ, ন, কুর্যাম্, কর্ম, চেৎ, অহম্,
সঙ্করস্য, চ, কর্তা, স্যামু, উপহন্যাম্, ইমাঃ, প্রজাঃ॥২৪॥
অর্থ:- আমি যদি
কর্ম না করি, তা হলে এই
সমস্ত লোক উৎসন্ন হবে। আমি বর্ণসঙ্কর সৃষ্টির কারণ হব এবং তার ফলে আমার দ্বারা
সমস্ত প্রজা বিনষ্ট হবে।
শ্লোক:25:
সক্তাঃ
কর্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্বন্তি ভারত ।
কুর্যাদ্
বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্ ॥২৫॥
সক্তাঃ, কর্মণি, অবিদ্বাংসঃ, যথা, কুর্বন্তি, ভারত,
কুর্যাৎ, বিদ্বান্, তথা, অসক্তঃ, চিকীর্ষুঃ, লোকসংগ্রহম্ ॥২৫॥
অর্থ:- হে ভারত !
অজ্ঞানীরা যেমন কর্মফলের প্রতি আসক্ত হয়ে তাদের কর্তব্যকর্ম করে, তেমনই জ্ঞানীরা অনাসক্ত
হয়ে, মানুষকে
সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য কর্ম করবেন।
শ্লোক:26:
ন বুদ্ধিভেদং
জনয়েদজ্ঞানাং কর্মসঙ্গিনাম্ ।
জোষয়েৎ
সর্বকর্মাণি বিদ্বান্ যুক্তঃ সমাচরন্ ॥২৬॥
ন, বুদ্ধিভেদম্, জনয়েৎ, অজ্ঞানাম্, কর্মসঙ্গিনাম্,
জোষয়েৎ, সর্বকর্মাণি, বিদ্বান্, যুক্তঃ, সমাচরন্ ॥২৬॥
অর্থ:- জ্ঞানবান
ব্যক্তিরা কর্মাসক্ত জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের বুদ্ধি বিভ্রান্ত করবেন না। বরং, তাঁরা ভক্তিযুক্ত
চিত্তে সমস্ত কর্ম অনুষ্ঠান করে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের কর্মে প্রবৃত্ত করবেন।
শ্লোক:27:
প্রকৃতেঃ
ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ ।
অহঙ্কারবিমূঢ়াত্মা
কর্তাহমিতি মন্যতে ॥২৭॥
প্রকৃতেঃ, ক্রিয়মাণানি, গুণৈঃ, কর্মাণি, সর্বশঃ,
অহঙ্কার-বিমূঢ়-আত্মা, কর্তা, অহম্, ইতি, মন্যতে ॥২৭॥
অর্থ:- অন্ধকারে
মোহাচ্ছন্ন জীব জড়া প্রকৃতির ত্রিগুণ দ্বারা ক্রিয়মাণ সমস্ত কার্যকে স্বীয়
কার্য বলে মনে করে 'আমি কর্তা'- এই রকম অভিমান করে।
শ্লোক:28:
তত্ত্ববিত্তু
মহাবাহো গুণকর্মবিভাগয়োঃ ।
গুণা গুণেষু
বর্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে ॥২৮॥
তত্ত্ব-বিৎ, তু, মহাবাহো, গুণ-কর্ম-বিভাগয়োঃ,
গুণাঃ, গুণেষু, বর্তন্তে, ইতি, মত্বা, ন, সজ্জতে ॥২৮॥
অর্থ:- হে মহাবাহো
! তত্বজ্ঞ ব্যক্তি ভগবদ্ভক্তিমুখী কর্ম ও সকাম কর্মের পার্থক্য ভালভাবে অবগত হয়ে, কখনও ইন্দ্রিয়সুখ
ভোগাত্মক কার্যে প্রবৃত্ত হন না।
শ্লোক:29:
প্রকৃতের্গুণসংমূঢ়া
সজ্জন্তে গুণকর্মসু ।
তানকৃৎস্নবিদো
মন্দান্ কৃৎস্নবিন্ন বিচালয়েৎ ॥২৯॥
প্রকৃতেঃ, গুণ-সংমূঢ়াঃ, সজ্জন্তে, গুণ-কর্মসু,
তান্, অকৃৎস্নবিদঃ, মন্দান্, কৃৎস্নবিৎ, ন, বিচালয়েৎ ॥২৯॥
অর্থ:- জড়া
প্রকৃতির গুণের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়ে,
অজ্ঞান ব্যক্তিরা জাগতিক কার্যকলাপে প্রবৃত্ত হয়। কিন্তু তাদের কর্ম নিকৃষ্ট
হলেও তত্বজ্ঞানী পুরুষেরা সেই মন্দবুদ্ধি ও অল্পজ্ঞ ব্যক্তিগণকে বিচলিত করেন না।
শ্লোক:30:
ময়ি সর্বাণি
কর্মাণি সংন্যস্যাধ্যাত্মচেতসা ।
নিরাশীর্নির্মমো
ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ ॥৩০॥
ময়ি, সর্বাণি, কর্মাণি, সন্ন্যস্য, অধ্যাত্ম-চেতসা,
নিঃ-আশীঃ, নির্মমঃ, ভূত্বা, যুধ্যস্ব, বিগতজ্বরঃ ॥৩০॥
অর্থ:-অতএব, হে অর্জুন !
আধ্যাত্মচেতনা-সম্পন্ন হয়ে তোমার সমস্ত কর্ম আমাকে সমর্পণ কর এবং মমতাশুন্য, নিষ্কাম ও শোকশূন্য
হয়ে তুমি যুদ্ধ কর।
শ্লোক:31:
যে মে মতমিদং
নিত্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ ।
শ্রদ্ধাবন্তোহনসূয়ন্তো
মুচ্যন্তে তেহপি কর্মভিঃ ॥৩১॥
যে, মে, মতম্, ইদম্, নিত্যম্, অনুতিষ্ঠন্তি, মানবাঃ,
শ্রদ্ধাবন্তঃ, অনসূয়ন্তঃ, মুচ্যন্তে, তে, অপি, কর্মভিঃ ॥৩১॥
অর্থ:- আমার
নির্দেশ অনুসারে যে-সমস্ত মানুষ তাঁদের কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান করেন এবং যাঁরা
শ্রদ্ধাবান ও মাৎসর্য রহিত হয়ে এই উপদেশ অনুসরণ করেন, তাঁরাও কর্মবন্ধন
থেকে মুক্ত হন।
শ্লোক:32:
যে
ত্বেতদভ্যসূয়ন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্ ।
সর্বজ্ঞানবিমূঢ়াংস্তান্
বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ ॥৩২॥
যে, তু, এতৎ, অভ্যসূয়ন্তঃ, ন, অনুতিষ্ঠন্তি, মে, মতম্,
সর্বজ্ঞান-বিমূঢ়ান্, তান্, বিদ্ধি, নষ্টান্, অচেতসঃ ॥৩২॥
অর্থ:- কিন্ত যারা
অসূয়াপূর্বক আমার এই উপদেশ পালন করে না,
তাদেরকে সমস্ত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত,
বিমূঢ় এবং পরমার্থ লাভের সকল প্রচেষ্টা থেকে ভ্রষ্ট বলে জানবে।
শ্লোক:33:
সদৃশং চেষ্টতে
স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি ।
প্রকৃতিং যান্তি
ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি ॥৩৩॥
সদৃশম্, চেষ্টতে, স্বস্যাঃ, প্রকৃতেঃ, জ্ঞানবান্, অপি,
প্রকৃতিম্, যান্তি, ভূতানি, নিগ্রহঃ, কিম্, করিষ্যতি ॥৩৩॥
অর্থ:- জ্ঞানবান
ব্যক্তিও তাঁর স্বভাব অনুসারে কার্য করেন,
কারণ প্রত্যকেই ত্রিগুণজাত তাঁর স্বীয় স্বভাবকে অনুগমন করেন। সুতরাং নিগ্রহ
করে কি লাভ হবে ?
শ্লোক:34:
ইন্দ্রিয়স্যেন্দ্রিয়স্যার্থে
রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ ।
তয়োর্ন বশমাগচ্ছেৎ
তৌ হ্যস্য পরিপন্থিনৌ ॥৩৪॥
ইন্দ্রিয়স্য, ইন্দ্রিয়স্য, অর্থে, রাগদ্বেষৌ, ব্যবস্থিতৌ,
তয়োঃ, ন, বশম্, আগচ্ছেৎ, তৌ, হি, অস্য, পরিপন্থিনৌ ॥৩৪॥
অর্থ:- সমস্ত জীবই
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুতে আসক্তি অথবা বিরক্তি অনুভব করে, কিন্তু এভাবে
ইন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়ের বিষয়ের বশীভূত হওয়া উচিত নয়, কারণ তা পারমার্থিক
প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক।
শ্লোক:35:
শ্রেয়ান্ স্বধর্মো
বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ ।
স্বধর্মে নিধনং
শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ ॥৩৫॥
শ্রেয়ান্, স্বধর্মঃ, বিগুণঃ, পরধর্মাৎ, সু-অনুষ্ঠিতাৎ,
স্বধর্মে, নিধনম্, শ্রেয়ঃ, পরধর্মঃ, ভয়াবহঃ ॥৩৫॥
অর্থ:- স্বধর্মের
অনুষ্ঠান দোষযুক্ত হলেও উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম থেকে উৎকৃষ্ট। স্বধর্ম সাধনে
যদি মৃত্যু হয়, তাও
মঙ্গলজনক, কিন্তু
অন্যের ধর্মের অনুষ্ঠান করা বিপজ্জনক।
শ্লোক:36:
অর্জুন উবাচ
অথ কেন
প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ ।
অনিচ্ছন্নপি
বার্ঞ্চেয় বলাদিব নিয়োজিতঃ ॥৩৬॥
অথ, কেন, প্রযুক্তঃ, অয়ম্, পাপম্, চরতি, পুরুষঃ,
অনিচ্ছন্, অপি, বার্ঞ্চেয়, বলাৎ, ইব, নিয়োজিতঃ ॥৩৬॥
অর্থ:- অর্জুন
বললেন- হে বার্ঞ্চেয় ! মানুষ কার দ্বারা চালিত হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেন
বলপূর্বক নিয়োজিত হয়েই পাপাচরণে প্রবৃত্ত হয়?
শ্লোক:37:
শ্রীভগবানুবাচ
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ
।
মহাশনো মহাপাপ্মা
বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্ ॥৩৭॥
কামঃ, এষঃ, ক্রোধঃ, এষঃ, রজোঃ-গুণ-সমুদ্ভবঃ,
মহাশনঃ, মহাপাপ্মা, বিদ্ধি, এনম্, ইহ, বৈরিণম্ ॥৩৭॥
অর্থ:-পরমেশ্বর
ভগবান বললেন- হে অর্জুন ! রজোগুণ থেকে সমুদ্ভূত কামই মানুষকে এই পাপে প্রবৃত্ত করে
এবং এই কামই ক্রোধে পরিণত হয়। কাম সর্বগ্রাসী ও পাপাত্মক; কামকেই জীবের
প্রধান শত্রু বলে জানবে।
শ্লোক:38:
ধূমেনাব্রিয়তে
বহ্নির্যথাদর্শো মলেন চ ।
যথোল্বেনাবৃতো
গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্ ॥৩৮॥
ধূমেন, আব্রিয়তে, বহ্নিঃ, যথা, আদর্শঃ, মলেন, চ,
যথা, উল্বেন, আবৃতঃ, গর্ভঃ, তথা, তেন, ইদম্, আবৃতম্ ॥৩৮॥
অর্থ:- অগ্নি যেমন
ধূম দ্বারা আবৃত থাকে, দর্পণ যেমন
ময়লার দ্বারা আবৃত থাকে অথবা গর্ভ যেমন জরায়ুর দ্বারা আবৃত থাকে, তেমনই জীবাত্মা
বিভিন্ন মাত্রায় এই কামের দ্বারা আবৃত থাকে।
শ্লোক:39:
আবৃতং জ্ঞানমেতেন
জ্ঞানিনো নিত্যবৈরিণা ।
কামরূপেণ কৌন্তেয়
দুষ্পূরেণানলেন চ ॥৩৯॥
আবৃতম্, জ্ঞানম্, এতেন, জ্ঞানিনঃ, নিত্যবৈরিণা,
কামরূপেণ, কৌন্তেয়, দুষ্পূরেণ, অনলেন, চ ॥৩৯॥
অর্থ:- কামরূপী চির
শত্রুর দ্বারা জীবের শুদ্ধ চেতনা আবৃত হয় । এই কাম দুর্বারিত অগ্নির মতো
চিরঅতৃপ্ত।
শ্লোক:40:
ইন্দ্রিয়াণি মনো
বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে ।
এতৈর্বিমোহয়ত্যেষ
জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্ ॥৪০॥
ইন্দ্রিয়াণি, মনঃ, বুদ্ধিঃ, অস্য, অধিষ্ঠানম্, উচ্যতে,
এতৈঃ, বিমোহয়তি, এষঃ, জ্ঞানম্, আবৃত্য, দেহিনম্ ॥৪০॥
অর্থ:-
ইন্দ্রিয়সমূহ, মন ও
বুদ্ধি এই কামের আশ্রয়স্থল ৷এই ইন্দ্রিয় আদির দ্বারা কাম জীবের প্রকৃত জ্ঞানকে
আচ্ছন্ন করে তাকে বিভ্রান্ত করে।
শ্লোক:41:
তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ
নিয়ম্য ভরতর্ষভ ।
পাপ্মানং প্রজহি
হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্ ॥৪১॥
তস্মাৎ, ত্ত্বম্, ইন্দ্রিয়াণি, আদৌ, নিয়ম্য, ভরত-ঋষভ,
পাপ্মানম্, প্রজহি, হি, এনম্, জ্ঞান-বিজ্ঞান-নাশনম্
॥৪১॥
অর্থ:- অতএব, হে ভরতশ্রেষ্ঠ !
তুমি প্রথমে ইন্দ্রিয়গুলিকে নিয়ন্ত্রিত করে জ্ঞান ও বিজ্ঞান-নাশক পাপের
প্রতীকরূপ এই কামকে বিনাশ কর।
শ্লোক:42:
ইন্দ্রিয়াণি
পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ ।
মনসস্তু পরা
বুদ্ধির্যো বুদ্ধেঃ পরতস্ত্ত সঃ ॥৪২॥
ইন্দ্রিয়াণি, পরাণি, আহুঃ, ইন্দ্রিয়েভ্যঃ, পরম্, মনঃ,
মনসঃ, তু, পরা, বুদ্ধিঃ, যঃ, বুদ্ধেঃ, পরতঃ, তু, সঃ ॥৪২॥
অর্থ:- স্থূল জড়
পদার্থ থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়;
ইন্দ্রিয়গুলি থেকে মন শ্রেয়;
মন থেকে বুদ্ধি শ্রেয়;
আর তিনি (আত্মা) সেই বুদ্ধি থেকেও শ্রেয়।
শ্লোক:43:
এবং বুদ্ধেঃ পরং
বুদ্ধা সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা।
জহি শত্রুং মহাবাহো
কামরূপংদুরাসদম্॥ ॥৪৩॥
এবম্, বুদ্ধেঃ, পরম্, বুদ্ধা, সংস্তভ্য, আত্মানম্, আত্মনা, জহি, শত্রুম্, মহাবাহো, কামরূপম্, দুরাসদম্॥ ॥৪৩॥
অর্থ:-হে মহাবীর
অর্জুন ! নিজেকে জড় ইন্দ্রীয়,
মন ও বুদ্ধির অতীত জেনে,
নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধির দ্বারা মনকে স্থির কর এবং এভাবেই চিৎ-শক্তির দ্বারা
কামরূপ দুর্জয় শত্রুকে জয় কর।
ওঁ তৎসদিতি
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'কর্মযোগো' নাম
তৃতীয়োঽধ্যায়ঃ
.jpeg)