দেহের পরিবর্তন কেমন করে হয় ?

শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বললেন,

“আত্মার জন্মও নেই , মৃত্যুও নেই । দেহের মতাে আত্মার বৃদ্ধিও হয় না । দেহের বিনাশ হয় , কিন্তু আত্মা কখনও বিনষ্ট হয় না । হে পার্থ ! এইভাবে যিনি আত্মাকে জানেন , তিনি কিভাবে কাউকে হত্যা করবেন ? 

মানুষ যেমন পুরানাে জীর্ণ কাপড় পরিত্যাগ করে আর একটি নতুন কাপড় পরিধান করে , ঠিক তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে আত্মা নতুন আর একটি দেহ ধারণ করে'' । গীতা ২/২০-২২

জড় দেহ আত্মার পােশাক মাত্র । আমরা জামা গায়ে দিই , কিন্তু আমরা জামা নই । তেমনই জড় জগতে এসে আমরা জড় উপাদানে তৈরি দেহ ধারণ করি , কিন্তু আমরা দেহ নই । আমরা হচ্ছি শাশ্বত চিন্ময় আত্মা , যা স্বয়ং ভগবানেরই অবিচ্ছেদ্য বিভিন্ন অংশ । জামাটি যখন পুরানাে হয় , ছিড়ে যায় , তখন আমরা যেমন সেটি বাদ দিয়ে নতুন আর একটি পােশাক পরি , । তেমনই শরীর জীর্ণ হলে , আত্মা সেটি ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে । 

জড়দেহের ছয়টি পরিবর্তন রয়েছেঃ

( ১ ) মাতৃ গর্ভে দেহের জন্ম 

( ২ ) বৃদ্ধি 

( ৩ ) কিছুকাল স্থিতি 

( ৪ ) উৎপাদন ( সন্তানসন্ততি সৃষ্টি ) 

( ৫ ) ক্ষয় বা জরাগ্রস্ততা এবং 

( ৬ ) বিনাশ বা মৃত্যু।

আত্মা পূর্ণ জ্ঞানময় এবং পুর্ণ চেতনাময় । সেই জন্য যখনই কোন জড় বস্তুর মধ্যে চেতনার প্রকাশ দেখা যায় , বুঝতে হবে তার মধ্যে আত্মা উপস্থিত রয়েছে । এইভাবে কীট - পতঙ্গ , বৃক্ষলতা , পশু , মানুষ সবারই মধ্যে রয়েছে চিৎকণ আত্মা , যদিও তাদের চেতনার বিকাশের তারতম্য রয়েছে । 

চেতনার বিকাশের বিভিন্ন অবস্থা অনুসারে জীবসত্তা বিভিন্ন ধরনের দেহ ধারণ করে থাকে । জীবাত্মা জড় দেহে আবদ্ধ হয়ে নিজকর্মফলের জন্য নানা দুঃখ - দুর্দশা অবিরাম ভােগ করে । কিন্তু যখন সে পরম চেতন পরমাত্মা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হয় , তখন তার সমস্ত কষ্টের অবসান হয়।। হরেকৃষ্ণ।।

।।জয় শ্রীকৃষ্ণ।।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post