কিভাবে ভক্তি যোগের মাধ্যমে আমরা অনুশীলন করব।

গীতায় পরম ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বর্ননা করেছেন, জীবের স্বরূপ হচ্ছে তার চিন্ময় আত্মা এবং বিভিন্ন যােগ - সাধনার মাধ্যমে সে চিন্ময় স্তরে উত্তীর্ণ হতে পারে । 
মনকে সর্বতােভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভাবনায় নিযুক্ত করা বা সর্বতােভাবে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়াই সর্বপ্রকার যােগ - সাধনার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ।
মনকে সর্বতােভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে একাগ্র করার মাধ্যমে পরম - তত্ত্বকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যায় , এ ছাড়া আর কোন উপায়েই তা সম্ভব নয়। 
কারন ?
সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত লাভ করার ফলে নিঃসন্দেহে অবগত হওয়া যায় যে , ভগবান শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরম জ্ঞান । সরাসরিভাবে ভগবদ্ভক্তি লাভ করে যিনি ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করেন , তিনি অনায়াসে বেদের ব্রহ্ম ও উপনিষদের পরমাত্মা সম্বন্ধে সর্বতােভাবে অবগত হন ।
কৃষ্ণভাবনাময় ভক্তিযােগ অনুশীলন করার মাধ্যমে সব কিছুই পরিপূর্ণরূপে জানতে পারা যায় ভগবান কে , জীব কি , জড়া প্রকৃতি কি ও তার প্রকাশ  কিভাবে হয় তাই , গীতার নির্দেশ অনুসারে ভক্তিযােগের অনুশীলন শুরু করা উচিত । 
কার কাছে অনুশীলন করবেন ??? 
পরম ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন , পরম জ্ঞান আমার কাছ থেকে শ্রবণ কর । কারন প্রকৃত জ্ঞান লাভের মাধ্যম শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে নির্ভরযােগ্য আর কেউ নেই   ,,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শুধু অর্জুন কে এই গীতা জ্ঞানের কথা বলেন না ই,, এই জড় জগতের প্রতি টি মানুষ ই অর্জুন,, যে গীতা জ্ঞান অর্জন   করেন।।
এই জ্ঞান অর্জনের  মাধ্যমে এই জ্ঞান আহরণ করলে শুদ্ধ কৃষ্ণভাবনাময় মানুষ হয়ে ওঠার শ্রেষ্ঠ সুযােগ লাভ করা যায় ।
কেন ??? 
বৈদিক শাস্ত্রসমূহ থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের  মুখে র কথা শ্রবণ করলে কল্যাণ হয় । কেউ যখন কৃষ্ণকথা শ্রবণ করেন , তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ , যিনি সকলের অন্তরে বিরাজমান , তিনি পরম বন্ধুর মতাে তাঁর হৃদয়কে সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত করেন ।
এভাবেই ভক্তের হৃদয়ে সুপ্ত পারমার্থিক জ্ঞানের বিকাশ হয় । 
সনাতন ধর্মের পরম জ্ঞান শুদ্বভক্তের কাছ থেকে যিনি যত কৃষ্ণকথা শােনেন , ততই তার অন্তরে ভগবদ্ভক্তি সুদৃঢ় হয় ।ভগবদ্ভক্তি বিকশিত হওয়ার ফলে রজোগুণ ও তমােগুণ থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং এভাবেই কাম , ক্রোধ , লােভ , মােহ আদি অন্তর্হিত হয় 
এই সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত হওয়ার ফলে ভগবদ্ভক্ত তখন শুদ্ধ সত্ত্বে অধিষ্ঠিত হন । তিনি তখন আন্তরিকভাবে ভগবৎ - সেবায় সঞ্জীবিত হন এবং পরিপূর্ণরূপে ভগবৎ - তত্ত্বের বিজ্ঞান উপলব্ধি করেন। এভাবেই ভক্তিযােগ সাধন করার ফলে জড় আসক্তির গ্রন্থি ছিন্ন হয় এবং মানুষ তখন অচিরেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে অবগত হন।
তাই , কৃষ্ণতত্ত্বের বিজ্ঞান বুঝতে হয় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখের বানী গীতা পড়ে। অথবা কৃষ্ণভাবনাময় ভক্তের কাছ থেকে।🌹
জয়শ্রী কৃষ্ণ 🙏❤🙏জয়শ্রী কৃষ্ণ।।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post