শ্রীভগবান্
উবাচ
ভূয়
এব মহাবাহো শৃণু মে পরমং বচঃ ।
যত্তেহহং
প্রীয়মাণায় বক্ষ্যামি হিতকাম্যয়া ॥১॥
ভূয়ঃ, এব, মহাবাহো,
শৃণু, মে, পরমম্, বচঃ,
যৎ, তে, অহম্,
প্রীয়মাণায়, বক্ষ্যামি, হিত-কাম্যয়া ॥১॥
অর্থ:-
পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে মহাবাহো ! পুনরায় শ্রবণ কর৷ যেহেতু তুমি আমার প্রিয়
পাত্র, তাই তেমার হিতকামনায় আমি পূর্বে যা বলেছি, তার থেকেও উৎকৃষ্ট তত্ত্ব
বলছি ।
শ্লোক:2:
ন
মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ ।
অহমাদির্হি
দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ ॥২॥
ন, মে, বিদুঃ,
সুরগণাঃ, প্রভবম্, ন, মহর্ষয়ঃ,
অহম্, আদিঃ,
হি,
দেবানাম্, মহর্ষীণাম্, চ, সর্বশঃ ॥২॥
অর্থ:-দেবতারা
বা মহর্ষিরাও আমার উৎপত্তি অবগত হতে পারে না, কেন না, সর্বতোভাবে আমিই দেবতা ও মহর্ষিদের আদি কারণ।
শ্লোক:3:
যো
মামজমনাদিং চ বেত্তি লোকমহেশ্বরম্ ।
অসংমূঢ়ঃ
স মর্ত্যেষু সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে ॥৩॥
যঃ, মাম্,
অজম্, অনাদিম্, চ, বেত্তি,
লোক-মহা-ঈশ্বরম্,
অসংমূঢ়ঃ, সঃ, মর্ত্যেষু,
সর্বপাপৈঃ, প্রমুচ্যতে ॥৩॥
অর্থ:-
যিনি আমাকে জন্মরহিত,
অনাদি ও সমস্ত গ্রহলোকের মহেশ্বর বলে জানেন, তিনিই কেবল মানুষদের মধ্যে মোহশুন্য হয়ে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন।
শ্লোক:4:
বুদ্ধির্জ্ঞানমসংমোহঃ
ক্ষমা সত্যং দমঃ শমঃ ।
সুখং
দুঃখং ভবোহভাবো ভয়ং চাভয়মেব চ ॥৪॥
বুদ্ধিঃ, জ্ঞানম্,
অসংমোহঃ, ক্ষমা, সত্যম্, দমঃ, শমঃ,
সুখম্, দুঃখম্,
ভবঃ,
অভাবঃ, ভয়ম্, চ, অভয়ম্,
এব,
চ ॥৪॥
অর্থ:-
বুদ্ধি, জ্ঞান,
সংশয় ও মোহ থেকে মুক্তি, ক্ষমা, সত্যবাদিতা,
ইন্দ্রিয়-সংয্ম, মনসংযম, সুখ, দুঃখ,
জন্ম, মৃত্যু, ভয়, অভয়,
অহিংসা, সমতা, সন্তোষ, তপস্যা,
দান,
য্শ ও অয্শ- প্রাণিদের এই সমস্ত নানা প্রকার ভাব আমার থেকেই
উৎপন্ন হয়।
শ্লোক:5:
অহিংসা
সমতা তুষ্টিস্তপো দানং যশোহযশোঃ ।
ভবন্তি
ভাবা ভূতানাং মত্ত এব পৃথগ্ বিধাঃ ॥৫॥
অহিংসা, সমতা,
তুষ্টিঃ, তপঃ, দানম্, যশঃ, অযশোঃ,
ভবন্তি, ভাবাঃ,
ভূতানাম্, মত্তঃ, এব, পৃথক্-বিধাঃ ॥৫॥
শ্লোক:6:
মহর্ষয়ঃ
সপ্ত পূর্বে চত্বারো মনবস্তথা ।
মদ্
ভাবা মানসা জাতা যেসাং লোক ইমাঃ প্রজাঃ ॥৬॥
মহর্ষয়ঃ, সপ্ত,
পূর্বে, চত্বারঃ, মনবঃ, তথা,
মৎ-ভাবাঃ, মানসাঃ,
জাতাঃ, যেসাম্, লোকে, ইমাঃ,
প্রজাঃ ॥৬॥
অর্থ:-
সপ্ত মহর্ষি,
তাঁদের পূর্বজাত সনকাদি চার কুমার ও চতুর্দশ মনু, সকলেই আমার মন থেকে উৎপন্ন হয়ে আমা হতে জন্মগ্রহণ করেছে এবং এই জগতের
স্থাবর-জঙ্গম আদি সমস্ত প্রজা তাঁরাই সৃষ্টি করেছেন।
শ্লোক:7:
এতাং
বিভূতিং যোগং চ মম যো বেত্তি তত্ত্বতঃ ।
সোহবিকম্পেন
যোগেন যুজ্যতে নাত্র সংশয়ঃ ॥৭॥
এতাম্, বি-ভূতিম্,
যোগম্, চ, মম, যঃ, বেত্তি,
তত্ত্বতঃ,
সঃ, অবিকম্পেন,
যোগেন, যুজ্যতে, ন, অত্র,
সংশয়ঃ ॥৭॥
অর্থ:-
যিনি আমার এই বিভূতি ও যোগ যথার্থরূপে জানেন, তিনি অবিচলিতভাবে
ভক্তিযোগে যুক্ত হন৷ সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
শ্লোক:8:
অহং
সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে ।
ইতি
মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমন্বিতাঃ ॥৮॥
অহম্, সর্বস্য,
প্রভবঃ, মত্তঃ, সর্বম্, প্রবর্ততে,
ইতি, মত্বা,
ভজন্তে, মাম্, বুধাঃ, ভাবসমন্বিতাঃ ॥৮॥
অর্থ:-
আমি জড় ও চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। সব কিছু আমার থেকেই প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব
অবগত হয়ে পণ্ডিতগণ শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন।
শ্লোক:9:
মচ্চিত্তা
মদ্ গতপ্রাণা বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্ ।
কথয়ন্তশ্চ
মাং নিত্যং তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ ॥৯॥
মৎ-চিত্তাঃ, মদ্ গতপ্রাণাঃ,
বোধয়ন্তঃ, পরস্পরম্,
কথয়ন্তঃ, চ, মাম্,
নিত্যম্, তুষ্যন্তি, চ, রমন্তি,
চ ॥৯॥
অর্থ:-
যাঁদের চিত্ত ও প্র্রাণ সম্পূর্ণরূপে আমাতে সমর্পিত, তাঁরা
পরস্পরের মধ্যে আমার কথা সর্বদাই আলাচনা করে এবং আমার সম্বন্ধে পরস্পরকে বুঝিয়ে
পরম সন্তোষ ও অপ্রাকৃত আনন্দ লাভ করেন।
শ্লোক:10:
তেষাং
সততযুক্তানাং ভজতাং প্রীতিপূর্বকম্ ।
দদামি
বুদ্ধিযোগং তং যেন মামুপযান্তি তে ॥১০॥
তেষাম্, সতত-যুক্তানাম্,
ভজতাম্, প্রীতিপূর্বকম্,
দদামি, বুদ্ধি-যোগম্,
তম্,
যেন,
মাম্, উপযান্তি, তে ॥১০॥
অর্থ:-
যাঁরা ভক্তিযোগ দ্বারা প্রীতিপূর্বক আমার ভজনা করে নিত্যযুক্ত, আমি তাঁদের শুদ্ধ জ্ঞানজনিত বুদ্ধিযোগ দান করি, যার
দ্বারা তাঁরা আমার কাছে ফিরে আসতে পারেন।
শ্লোক:11:
তেষামেবানুকম্পার্থমহমজ্ঞানজং
তমঃ ।
নাশয়াম্যাত্মভাবস্থো
জ্ঞানদীপেন ভাস্বতা ॥১১॥
তেষাম্, এব, অনুকম্পার্থম্,
অহম্, অজ্ঞান-জম্, তমঃ,
নাশয়ামি, আত্ম-ভাবস্থঃ,
জ্ঞানদীপেন, ভাস্বতা ॥১১॥
অর্থ:-তাঁদের
প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য আমি তাঁদের হৃদয়ে অবস্থিত হয়ে, উজ্জ্বল জ্ঞান-প্রদীপের দ্বারা অজ্ঞান-জনিত অন্ধকার নাশ করি।
শ্লোক:12:
অর্জন
উবাচ
পরং
ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্ ।
পুরুষং
শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্ ॥১২॥
পরম্, ব্রহ্ম,
পরম্, ধাম, পবিত্রম্, পরমম্,
ভবান্,
পুরুষম্, শাশ্বতম্,
দিব্যম্, আদি-দেবম্, অজম্,
বিভুম্ ॥১২॥
অর্থ:-
অর্জুন বললেন- তুমি পরম ব্রহ্ম, পরম ধাম, পরম
পবিত্র ও পরম পুরুষ৷ তুমি নিত্য, দিব্য, আদি
দেব, অজ ও বিভু। দেবর্ষি নারদ, অসিত, দেবল, ব্যাস আদি ঋষিরা তোমাকে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তুমি নিজেও এখন আমাকে তা
বলছ।
শ্লোক:13:
আহুস্তামৃষয়ঃ
সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা ।
অসিতো
দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ॥১৩॥
আহুঃ, তাম্,
ঋষয়ঃ, সর্বে, দেব-ঋষিঃ, নারদঃ,
তথা,
অসিতঃ, দেবলঃ,
ব্যাসঃ, স্বয়ম্, চ, এব, ব্রবীষি,
মে ॥১৩॥
শ্লোক:14:
সর্বমেতদ্
ঋতং মন্যে যন্মাং বদসি কেশব ।
ন
হি তে ভগবন্ ব্যক্তিং বিদুর্দেবা ন দানবাঃ ॥১৪॥
সর্বম্, এতৎ, ঋতম্,
মন্যে, যৎ, মাম্, বদসি,
কেশব,
ন, হি, তে, ভগবন্,
ব্যক্তিম্, বিদুঃ, দেবাঃ, ন, দানবাঃ ॥১৪॥
অর্থ:-হে
কেশব ! তুমি আমাকে যা বলেছ,
তা আমি সত্য বলে মনে করি৷ হে ভগবান ! দেবতা অথবা দানবেরা
কেউই তোমার তত্ত্ব য্থাযথভাবে অবগত নন।
শ্লোক:15:
স্বয়মেবাত্মনাত্মানং
বেত্থ ত্বং পুরুষোত্তম ।
ভূতভাবন
ভূতেশ দেবদেব জগৎপতে ॥১৫॥
স্বয়ম্, এব, আত্মনা,
আত্মানম্, বেত্থ, ত্বম্, পুরুষোত্তম,
ভূত-ভাবন, ভূত-ঈশ,
দেবদেব, জগৎপতে ॥১৫॥
অর্থ:-
হে পুরুষোত্তম ! হে ভূতভাবন ! হে ভূতেশ ! হে দেবদেব ! হে জগৎপতে ! তুমি নিজেই
তোমার চিৎশক্তির দ্বারা তোমার ব্যক্তিত্ত্ব অবগত আছ।
শ্লোক:16:
বক্তুমর্হস্যশেষেণ
দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ ।
যাভির্বিভূতিভির্লোকানিমাংস্ত্বং
ব্যাপ্য তিষ্ঠসি ॥১৬॥
বক্তুম্, অর্হসি,
অশেষেণ, দিব্যাঃ, হি, আত্ম-বিভূতয়ঃ,
যাভিঃ, বিভূতিভিঃ,
লোকান্, ইমান্, ত্বম্, ব্যাপ্য,
তিষ্ঠসি ॥১৬॥
অর্থ:-
তুমি যে বিভূতির দ্বারা এই লোক সমূহে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছ, সেই সমস্ত তোমার দিব্য বিভূতি সকল তুমিই কেবল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে
সমর্থ।
শ্লোক:17:
কথং
বিদ্যামহং যোগিংস্ত্বাং সদা পরিচিন্তয়্ন্ ।
কেষু
কেষু চ ভাবেষু চিন্ত্যোহসি ভগবন্ময়া ॥১৭॥
কথম্, বিদ্যামহম্,
যোগিন্, ত্বাম্, সদা, পরিচিন্তয়্ন্,
কেষু, কেষু,
চ,
ভাবেষু, চিন্ত্যঃ, অসি, ভগবন্,
ময়া ॥১৭॥
অর্থ:-
হে যোগেশ্বর ! কিভাবে সর্বদা তোমার চিন্তা করলে আমি তোমাকে জানতে পারব ? হে ভগবান ! কোন্ কোন্ বিবিধ আকৃতির মাধ্যমে আমি তোমাকে চিন্তা করব ?
শ্লোক:18:
বিস্তরেণাত্মনো
যোগং বিভূতিং চ জনার্দন ।
ভূয়ঃ
কথয় তৃপ্তির্হি শৃণ্বতো নাস্তি মেহমৃতম্ ॥১৮॥
বিস্তরেণ, আত্মনঃ,
যোগম্, বিভূতিম্, চ, জনার্দন,
ভূয়ঃ, কথয়,
তৃপ্তিঃ, হি, শৃণ্বতঃ, ন, অস্তি,
মে,
অমৃতম্ ॥১৮॥
অর্থ:-
হে জনার্দন ! তোমার যোগ ও বিভূতি বিস্তারিতভাবে পুনরায় আমাকে বল৷ কারণ তোমার
উপদেশামৃত পান করে আমার পরিতৃপ্তি হচ্ছে না; আমি আরও শ্রবণ করতে ইচ্ছা
করি।
শ্লোক:19:
শ্রীভগবানুবাচ
হন্ত
তে কথয়িষ্যামি দিব্যা হ্যাত্মবিভূতয়ঃ ।
প্রাধান্যতঃ
কুরুশ্রেষ্ঠ নাস্ত্যন্তো বিস্তরস্য মে ॥১৯॥
হন্ত, তে, কথয়িষ্যামি,
দিব্যাঃ, হি, আত্ম-বিভূতয়ঃ,
প্রাধান্যতঃ, কুরুশ্রেষ্ঠ,
ন,
অস্তি, অন্তঃ, বিস্তরস্য, মে ॥১৯॥
অর্থ:-
পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে অর্জুন, আমার দিব্য প্রধান প্রধান বিভূতিসমূহ
তোমাকে বলব,
কিন্তু আমার বিভূতিসমূহের অন্ত নেই।
শ্লোক:20:
অহমাত্মা
গুড়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ ।
অহমাদিশ্চ
মধ্যং চ ভূতানামন্ত এব চ ॥২০॥
অহম্, আত্মা,
গুড়াকেশ, সর্ব-ভূত-আশয়-স্থিতঃ,
অহম্, আদিঃ,
চ,
মধ্যম্, চ, ভূতানাম্, অন্তঃ,
এব,
চ ॥২০॥
অর্থ:-
হে গুড়াকেশ ! আমিই সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা, আমিই সর্বভূতের আদি,
মধ্য ও অন্ত।
শ্লোক:21:
আদিত্যানামহং
বিষ্ণুর্জ্যোতিষাং রবিংশুমান্ ।
মরীচির্মরুতামস্মি
নক্ষত্রাণামহং শশী ॥২১॥
আদিত্যানাম্, অহম্,
বিষ্ণুঃ, জ্যোতিষাম্, রবিঃ,
অংশুমান্,
মরীচিঃ, মরুতাম্,
অস্মি, নক্ষত্রাণাম্, অহম্,
শশী ॥২১॥
অর্থ:-
আদিত্যদের মধ্যে আমি বিষ্ণু, জ্যোতিষ্কদের মধ্যে আমি কিরণশালী সূর্য, মরুতদের মধ্যে আমি মরীচি এবং নক্ষত্রদের মধ্যে আমি চন্দ্র।
শ্লোক:22:
বেদানাং
সামবেদোহস্মি দেবানামস্মি বাসবঃ ।
ইন্দ্রিয়াণাং
মনশ্চাস্মি ভূতানামস্মি চেতনা ॥২২॥
বেদানাম্, সামবেদঃ,
অস্মি, দেবানাম্, অস্মি,
বাসবঃ,
ইন্দ্রিয়াণাম্, মনঃ, চ, অস্মি,
ভূতানাম্, অস্মি, চেতনা
॥২২॥
অর্থ:-
সমস্ত বেদের মধ্যে আমি সামবেদ, সমস্ত দেবতাদের মধ্যে আমি ইন্দ্র, সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে আমি মন এবং সমস্ত প্রাণীদের মধ্যে আমি চেতনা।
শ্লোক:23:
রুদ্রাণাং
শঙ্করশ্চাস্মি বিত্তেশো যক্ষরক্ষসাম্ ।
বসূনাং
পাবকশ্চাস্মি মেরুঃ শিখরিণামহম্ ॥২৩॥
রুদ্রাণাম্, শঙ্করঃ,
চ,
অস্মি, বিত্তেশঃ, যক্ষরক্ষসাম্,
বসূনাম্, পাবকঃ,
চ,
অস্মি, মেরুঃ, শিখরিণাম্, অহম্ ॥২৩॥
অর্থ:-
রুদ্রদ্রের মধ্যে আমি শিব,
যক্ষ ও রাক্ষসদের মধ্যে আমি কুবের, বসুদের মধ্যে আমি অগ্নি এবং সমস্ত পর্বতসমূহের মধ্যে আমি সুমেরু।
শ্লোক:24:
পুরোধসাং
চ মুখ্যং মাং বিদ্ধি পার্থ বৃহস্পতিম্ ।
সেনানীনামহং
স্কন্দঃ সরসামস্মি সাগরঃ ॥২৪॥
পুরোধসাম্, চ, মুখ্যম্,
মাম্, বিদ্ধি, পার্থ, বৃহস্পতিম্,
সেনানীনাম্, অহম্,
স্কন্দঃ, সরসাম্, অস্মি, সাগরঃ ॥২৪॥
অর্থ:-
হে পার্থ ! পুরোহিতদের মধ্যে আমি প্রধান বৃহস্পতি, সেনাপতিদের
মধ্যে আমি কার্তিক এবং জলাশয়ের মধ্যে আমি সাগর।
শ্লোক:25:
মহর্ষীণাং
ভৃগুরহং গিরামস্ম্যেকমক্ষরম্ ।
যজ্ঞানাং
জপযজ্ঞোহস্মি স্থাবরাণাং হিমালয়ঃ ॥২৫॥
মহর্ষীণাম্, ভৃগুঃ,
অহম্, গিরাম্, অস্মি, একম্,
অক্ষরম্ ।
যজ্ঞানাম্, জপ-যজ্ঞঃ,
অস্মি, স্থাবরাণাম্, হিমালয়ঃ ॥২৫॥
অর্থ:-
মহর্ষিদের মধ্যে আমি ভৃগু,
বাক্যসমূহের মধ্যে আমি ওঁকার৷ যজ্ঞসমূহের মধ্যে আমি জপযজ্ঞ
এবং স্থাবর বস্তুসমূহের মধ্যে আমি হিমালয়।
শ্লোক:26:
অশ্বথঃ
সর্ববৃক্ষাণাং দেবর্ষীণাং চ নারদঃ ।
গন্ধর্বাণাং
চিত্ররথঃ সিদ্ধানাং কপিলো মুনিঃ ॥২৬॥
অশ্বথঃ, সর্ব-বৃক্ষাণাম্,
দেব-ঋষীণাম্, চ, নারদঃ,
গন্ধর্বাণাম্, চিত্ররথঃ,
সিদ্ধানাম্, কপিলঃ, মুনিঃ ॥২৬॥
অর্থ:-
সমস্ত বৃক্ষের মধ্যে আমি অশ্বথ, দেবর্ষিদের মধ্যে আমি নারদ৷ গন্ধর্বদের
মধ্যে আমি চিত্ররথ এবং সিদ্ধদের মধ্যে আমি কপিল মুনি।
শ্লোক:27:
উচ্চৈঃশ্রবসমশ্বানাং
বিদ্ধি মামমৃতোদ্ ভবম্ ।
ঐরাবতং
গজেন্দ্রাণাং নরাণাং চ নরাধিপম্ ॥২৭॥
উচ্চৈঃশ্রবসম্, অশ্বানাম্,
বিদ্ধি, মাম্, অমৃত-উদ্ভবম্,
ঐরাবতম্, গজ-ইন্দ্রাণাম্,
নরাণাম্, চ, নর-অধিপম্ ॥২৭॥
অর্থ:-
অশ্বদের মধ্যে আমাকে সমুদ্র-মন্থনের সময় উদ্ভূত উচ্চৈঃশ্রবা বলে জানবে ৷ শ্রেষ্ঠ
হস্তীদের মধ্যে আমি ঐরাবত এবং মনুষ্যদের মধ্যে আমি সম্রাট।
শ্লোক:28:
আয়ুধানামহং
বজ্রং ধেনূনামস্মি কামধুক্ ।
প্রজনশ্চাস্মি
কন্দর্পঃ সর্পাণামস্মি বাসুকীঃ ॥২৮॥
আয়ুধানাম্, অহম্,
বজ্রম্, ধেনূনাম্, অস্মি,
কামধুক্,
প্রজনঃ, চ, অস্মি,
কন্দর্পঃ, সর্পাণাম্, অস্মি,
বাসুকীঃ ॥২৮॥
অর্থ:-
সমস্ত অস্ত্রের মধ্যে আমি বজ্র, গাভীদের মধ্যে আমি কামধেনু ৷সন্তান
উৎপাদনের কারণ আমিই কামদেব এবং সর্পদের মধ্যে আমি বাসুকি। সমস্ত নাগদের মধ্যে আমি
অনন্ত এবং জলচরদের মধ্যে আমি বরুণ৷ পিতৃদের মধ্যে আমি অর্যমা এবং দণ্ডদাতাদের
মধ্যে আমি যম।
শ্লোক:29:
অনন্তশ্চাস্মি
নাগানাং বরুণো যাদসামহম্ ।
পিতৃণামর্যমা
চাস্মি যমঃ সংযমতামহম্ ॥২৯॥
অনন্তঃ, চ, অস্মি,
নাগানাম্, বরুণঃ, যাদসাম্, অহম্ ,
পিতৃণাম্, অর্যমা,
চ,
অস্মি, যমঃ, সংযমতাম্, অহম্ ॥২৯॥
শ্লোক:30:
প্রহ্লাদশ্চাস্মি
দৈত্যানাং কালঃ কলয়তামহম্ ।
মৃগাণাং
চ মৃগেন্দ্রোহহং বৈনতেয়শ্চ পক্ষিণাম্ ॥৩০॥
প্রহ্লাদঃ, চ, অস্মি,
দৈত্যানাম্, কালঃ, কলয়তাম্,
অহম্,
মৃগাণাম্, চ, মৃগ-ইন্দ্রঃ,
অহম্, বৈনতেয়ঃ, চ, পক্ষিণাম্ ॥৩০॥
অর্থ:-
দৈত্যদের মধ্যে আমি পহ্লাদ,
বশীকারীদের মধ্যে আমি কাল, পশুদের
মধ্যে আমি সিংহ এবং পক্ষীদের মধ্যে আমি গরুড়।
শ্লোক:31:
পবনঃ
পবতামস্মি রামঃ শস্ত্রভৃতামহম্ ।
ঝষাণাং
মকরশ্চাস্মি স্রোতসামস্মি জাহ্নবী ॥৩১॥
পবনঃ, পবতাম্,
অস্মি, রামঃ, শস্ত্রঃ-ভৃতাম্, অহম্ ।
ঝষাণাম্, মকরঃ,
চ,
অস্মি, স্রোতসাম্, অস্মি,
জাহ্নবী ॥৩১॥
অর্থ:-
পবিত্রকারী বস্তুদের মধ্যে আমি বায়ু, শস্ত্রধারীদের মধ্যে আমি
পরশুরাম, মৎস্যদের মধ্যে আমি মকর এবং নদীসমূহের মধ্যে আমি গঙ্গা।
শ্লোক:32:
সর্গাণামাদিরন্তশ্চ
মধ্যং চৈবাহমর্জুন ।
আধ্যাত্মবিদ্যা
বিদ্যানাং বাদঃ প্রবদতামহম্ ॥৩২॥
সর্গাণাম্, আদিঃ,
অন্তঃ, চ, মধ্যম্, চ, এব, অহম্,
অর্জুন ।
আধ্যাত্মবিদ্যা, বিদ্যানাম্,
বাদঃ, প্রবদতাম্, অহম্ ॥৩২॥
অর্থ:-
হে অর্জুন ! সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে আমি আদি, অন্ত ও মধ্য৷ সমস্ত
বিদ্যার মধ্যে আমি অধ্যাত্মবিদ্যা এবং তার্কিকদের বাদ, জল্প ও বিতণ্ডার মধ্যে আমি সিন্ধান্তবাদ।
শ্লোক:33:
অক্ষরাণামকারোহস্মি
দ্বন্দ্বঃ সামাসিকস্য চ।
অহমেবাক্ষয়ঃ
কালো ধাতাহং বিশ্বতোমুখঃ ॥৩৩॥
অক্ষরাণাম্, অকারঃ,
অস্মি, দ্বন্দ্বঃ, সামাসিকস্য,
চ,
অহম্, এব, অক্ষয়ঃ,
কালঃ, ধাতা, অহম্, বিশ্বতঃ-মুখঃ ॥৩৩॥
অর্থ:-
সমস্ত অক্ষরের মধ্যে আমি অকার, সমাসসমূহের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সমাস, সংহারকারীদের মধ্যে আমি মহাকাল রুদ্র এবং স্রষ্টাদের মধ্যে আমি ব্রহ্মা।
শ্লোক:34:
মৃত্যুঃ
সর্বহরশ্চাহমুদ্ভবশ্চ ভবিষ্যতাম্ ।
কীর্তিঃ
শ্রীর্বাক্ চ নারীণাং স্মৃতির্মেধা ধৃতিঃ ক্ষমা ॥৩৪॥
মৃত্যুঃ, সর্বহরঃ,
চ,
অহম্, উদ্ভবঃ, চ, ভবিষ্যতাম্,
কীর্তিঃ, শ্রীঃ,
বাক্, চ, নারীণাম্, স্মৃতি,
মেধা, ধৃতিঃ, ক্ষমা
॥৩৪॥
অর্থ:-
সমস্ত হরণকারীদের মধ্যে আমি সর্বগ্রাসী মৃত্যু, ভাবীকালের বস্তুসমূহের
মধ্যে আমি উদ্ভব ৷ নারীদের মধ্যে আমি কীর্তি, শ্রী, বাণী,
স্মৃতি, মেধা, ধৃতি
ও ক্ষমা ।
শ্লোক:35:
বৃহৎসাম
তথা সাম্নাং গায়ত্রী ছন্দসামহম্ ।
মাসানাং
মার্গশীর্ষোহহ্ মৃতূনাং কুসুমাকরঃ ॥৩৫॥
বৃহৎসাম্, তথা, সাম্নাম্,
গায়ত্রী, ছন্দসাম্, অহম্,
মাসানাম্, মার্গশীর্ষঃ,
অহম্, ঋতূনাম্, কুসুম-আকরঃ
॥৩৫॥
অর্থ:-
সামবেদের মধ্যে আমি বৃহৎসাম এবং ছন্দসমূহের মধ্যে আমি গায়ত্রী, মাসসমূহের মধ্যে আমি অগ্রহায়ণ এবং ঋতুদের মধ্যে আমি বসন্ত।
শ্লোক:36:
দ্যুতং
ছলয়তামস্মি তেজস্তেজস্বিনামহম্ ।
জয়োহস্মি
ব্যবসায়োহস্মি সত্ত্বং সত্ত্ববতামহম্ ॥৩৬॥
দ্যুতম্, ছলয়তাম্,
অস্মি, তেজঃ, তেজস্বিনাম্, অহম্ ।
জয়ঃ, অস্মি,
ব্যবসায়ঃ, অস্মি, সত্ত্বম্, সত্ত্ববতাম্,
অহম্ ॥৩৬॥
অর্থ:-
সমস্ত বঞ্চনাকারীদের মধ্যে আমি দ্যূতক্রীড়া এবং তেজস্বীদের মধ্যে আমি তেজ। আমি
বিজয়, আমি উদ্যম এবং বলবানদের মধ্যে আমি বল।
শ্লোক:37:
বৃঞ্চীনাং
বাসুদেবোহস্মি পাণ্ডবানাং ধনঞ্জয়ঃ ।
মুনীনামপ্যহং
ব্যাসঃ কবীনামুশনাঃ কবিঃ ॥৩৭॥
বৃঞ্চীনাম্, বাসুদেবঃ,
অস্মি, পাণ্ডবানাম্, ধনঞ্জয়ঃ,
মুনীনাম্, অপি, অহম্,
ব্যাসঃ, কবীনাম্, উশনাঃ, কবিঃ ॥৩৭॥
অর্থ:-
বৃঞ্চিদের মধ্যে আমি বাসুদেব এবং পাণ্ডবদের মধ্যে আমি অর্জুন ৷ মুনিদের মধ্যে আমি
ব্যাস এবং কবিদের মধ্যে আমি শুক্রাচার্য।
শ্লোক:38:
দণ্ডো
দময়তামস্মি নীতিরস্মি জিগীষতাম্ ।
মৌনং
চৈবাস্মি গুহ্যানাং জ্ঞানং জ্ঞানবতামহম্ ॥৩৮॥
দণ্ড, দময়তাম্,
অস্মি, নীতিঃ, অস্মি, জিগীষতাম্,
মৌনম্, চ, এব, অস্মি,
গুহ্যানাম্, জ্ঞানম্, জ্ঞানবতাম্,
অহম্ ॥৩৮॥
অর্থ:-
দমনকরীদের মধ্যে আমি দণ্ড এবং জয় অভিলাষীদের মধ্যে আমি নীতি ৷ গুহ্য ধর্মের মধ্যে
আমি মৌন এবং জ্ঞানবানদের মধ্যে আমিই জ্ঞান।
শ্লোক:39:
যচ্চাপি
সর্বভূতানাং বীজং তদহমর্জুন ।
ন
তদস্তি বিনা যৎ স্যান্ময়া ভূতং চরাচরম্ ॥৩৯॥
যৎ, চ, অপি, সর্বভূতানাম্,
বীজম্, তৎ, অহম্, অর্জুন,
ন, তৎ, অস্তি,
বিনা, যৎ, স্যাৎ, ময়া,
ভূতম্, চর-অচরম্ ॥৩৯॥
অর্থ:-
হে অর্জুন ! যা সর্বভূতের বীজস্বরূপ তাও আমি, যেহেতু আমাকে ছাড়া স্থাবর
ও জঙ্গম কোন বস্তুরই অস্তিত্ত্ব থাকতে পারে না।
শ্লোক:40:
নান্তোহস্তি
মম দিব্যানাং ,বিভূতীনাং পরন্তপ ।
এষ
তূদ্দেশতঃ প্রোক্তো বিভূতের্বিস্তরো ময়া ॥৪০॥
ন, অন্তঃ,
অস্তি, মম, দিব্যানাম্, বিভূতীনাম্,
পরন্তপ,
এষঃ, তু, উদ্দেশতঃ,
প্রোক্তঃ, বিভূতেঃ, বিস্তরঃ, ময়া ॥৪০॥
অর্থ:-
হে পরন্তপ ! আমার দিব্য বিভুতি-সমূহের অন্ত নেই ৷ আমি কেবল এই সমস্ত বিভূতির
বিস্তার সংক্ষেপে বললাম।
শ্লোক:41:
যদ্
যদ্বিভূতীমৎ সত্ত্বং শ্রীমদূর্জিতমেব বা ।
তত্তদেবাবগচ্ছ
ত্বং মম তেজোহংশসম্ভবম্ ॥৪১॥
যৎ, যৎ, বিভূতীমৎ,
সত্ত্বম্, শ্রীমৎ, ঊর্জিতম্, এব, বা, ।
তৎ, তৎ, এব, অবগচ্ছ,
ত্বম্, মম, তেজঃ-অংশসম্ভবম্ ॥৪১॥
অর্থ:-
ঐশ্বর্য্যযুক্ত,
শ্রী-সম্পন্ন ও বল-প্রভাবাদির আধিক্যযুক্ত যত বস্তু আছে, সে সবই আমার তেজাংশসম্ভূত বলে জানবে।
শ্লোক:42:
অথবা
বহুনৈতেন কিং জ্ঞাতেন তবার্জুন।
বিষ্টভ্যাহমিদং
কৃৎস্নমেকাংশেন স্থিতো জগৎ॥৪২॥
অথবা, বহুনা,
এতেন, কিম্, জ্ঞাতেন, তব, অর্জুন।
বিষ্টভ্য, অহম্,
ইদম্, কৃৎস্নম্, এক-অংশেন,
স্থিতঃ, জগৎ॥৪২॥
অর্থ:-
হে অর্জুন ! অথবা এই প্রকার বহু জ্ঞানের দ্বারা তোমার কি প্রয়োজন ? আমি আমার এক অংশের দ্বারা সমস্ত জগতে ব্যাপ্ত হয়ে অবস্থিত আছি।
ওঁ
তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে
শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'বিভূতিযোগো'
নাম দশমোঽধ্যায়ঃ ॥১০॥
.jpeg)