উত্তরে সবাই একমত হবেন যে, ভগবানকে ভালবাসা, তার সেবা করা ও ভগবানের আদেশ মান্য করাই জীবের ধর্ম। যে ছোট তার কর্তব্য হল বড়দের কথা শোনা। তেমনি অংশের কাজ হল পূর্নের সেবা করা। এটা সহজাত।
জলের ধর্ম নীচে বইয়ে যাওয়া ও তরলতা। আগুনের ধর্ম প্রজ্জলন ও আলো দান করা। বরফের শীতলতা ও শক্ত। জলের তরলতা বহমান ও আগুনের প্রজ্জলতার ধর্মের মত, জীবাত্মার সেবাভাব হল তার স্বরুপ। আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, কৃষ্ণসেবাই হচ্ছে প্রতিটি জীবের নিত্যধর্ম। জড়জগতে পতিত হয়ে জীবাত্মা একটি গাছের দেহে, একটা কুকুরের দেহে, একটি আমেরিকান দেহে, একটি রাশিয়ান দেহে, হিন্দু, মসুলমান বা খৃষ্টান দেহে বাস করতে পারে কিন্তু তাতে তার স্বরুপ ধর্মের কোন পরিবর্তন হয় না। সেইজন্য আত্মার ধর্মই সনাতনধর্ম।
এই জগতে সবাই জন্মসুত্রে সনাতনধর্মের অংশ।
দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ তার নিত্যধর্ম কি জানে না। কিন্তু কেউ যদি এই কৃষ্ণভাবনার জ্ঞানটুকু তাকে জানিয়ে দেয় অথবা তার হৃদয়ে কৃষ্ণস্মৃতিটির প্রদীপটি জালিয়ে দেয় তখন সে জানতে পারে।
সনাতন শব্দের অর্থ নিত্য, শাশ্বত ও অনাদি।
জীবের আত্মাও নিত্য শাশ্বত ও অনাদি। আত্মার পারমার্থিক উন্নতির যে কর্তব্য তাই সনাতনধর্ম।অনন্তকোটি বিশ্বব্রহ্মান্ডের সমস্ত জীবের ধর্ম সনাতনধর্ম। সনাতন ধর্ম কোন মানুষের সৃষ্ট নয়, কোন গোড়ামীপূর্ন বিশ্বাস বা মতবাদ নয়।
মানুষের ভুল করা সহজাত স্বভাব। জড়জগতে এসে মানুষ নানারকম কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে বিভ্রান্ত হয়ে অধর্ম করা শুরু করে। কর্ম আর ধর্মকে নিয়ে কিছু অসাধু ব্যাক্তিবর্গ ব্যবসা করা শুরু করে।
সনাতন ধর্ম সাক্ষাৎ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক প্রদত্ত-
”ধর্মং তু সাক্ষাদ্ভগবৎ প্রনীতম”।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগব্দগীতায় চুড়ান্ত উপদেশ দিয়েছেন,
‘সর্বধর্মান পরিত্যজ্য মামেকং শরনং ব্রজ,
অহং তাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ”। ১৮/৬৬
অনুবাদঃ ”সমস্ত ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরনাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। তুমি শোক কর না”।
আপনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদেশ গীতাকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করুন, আর এটাই জীবের শ্রেষ্ঠতম পথ।।হরেকৃষ্ণ।।