দ্বিতীয় স্কন্দ - সপ্তম অধ্যায়

ভগবানের অবতার লীলা কীর্তন সমুদ্র নিমগ্ন পৃথিবী উদ্ধারের জন্য ভগবান নারায়ণ বরাহ মূর্তি ধারণ করে তার প্রচণ্ড দম্ভের আঘাতে দৈত্য হিরণ্যাক্ষকে বধ করেছিলেন। তিনি ইন্দ্র হয়ে ত্রিলোকের মহতী, আর্তি হরণ করে হলেন হরি। অত্রিমুনির প্রতি প্রসন্ন হয়ে তার পুত্র রূপে ‘দত্ত নাম নিয়ে জন্ম নিয়েছিলেন। ঋষিপত্নী দেবহুতির গর্ভে ‘কপিল’ নামে জন্মে নিজ জননীকে তত্ত্ব-সংখ্যান-রূপ আত্মতত্ত্ব উপদেশ করেছিলেন। ধর্মের পত্নী দক্ষের কন্যা মূত্রি গর্ভে নিজের তপস্যার প্রভাব যুক্ত ‘নর’ ও ‘নারায়ণ’ –দুই মূর্তিতে জন্মগ্রহণ করেন।

পাঁচবছরের বালক ধ্রুবের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ভগবান ‘পৃশ্মিগভ’ রূপে ধ্রুবকে ধ্রুবলোক দান করেছিলেন। মহারাজ বেন ব্রাহ্মণদের অভিশাপ মাথায় নিয়ে নরকগামী হলে ঋষিদের প্রার্থনায় ভগবান ‘পৃথু’ নামে তার গৃহে পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

ভগবান অগ্নীপ্র পুত্র মহারাজ নাভি হতে তার পত্নী সুদেবীর গর্ভে ‘ঋষভ’ রূপে অবতীর্ণ হন। ব্রহ্মা বললেন–আমার যজ্ঞে সুবর্ণবর্ণ, ছন্দোময়, যজ্ঞময়, সর্বদেবময়, যজ্ঞপুরুষ সেই ভগবান হয় শীর্ষ রূপে অবতীর্ণ হন এবং সেই সময় তার নিশ্বাস থেকে বেদসকলের সৃষ্টি হয়।

প্রলয়কালে ভগবান মৎস্য’ রূপে পৃথিবীর প্রাণীসকলকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। অমৃত লাভের জন্য ক্ষীরসাগর মন্থনকারী দেবাসুরদের, মন্থনদণ্ড স্বরূপ মন্দর পর্বত, ভগবান কূর্ম’ রূপে স্বীয় পৃষ্ঠে ধারণ করেছিলেন। ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং নৃসিংহ মূর্তি ধারণ করে বলদপিৰ্ত দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে নিজের উরুদেশে রেখে নখের দ্বারা বিদীর্ণ করে বধ করেন। যজ্ঞাধিপতি বিষ্ণু বামন’ রূপে মহারাজ বলির কাছ থেকে ত্রিপাদ পরিমিত ভূমি প্রার্থনার ছলে ত্রিভুবন গ্রহণ করেছিলেন। ভগবান সর্বশক্তিমান হয়েও ধর্মের পথে বিচরণকারী জনকে যাঞ্জা ছাড়া ঐশ্বর্য থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এমন বিবেচনা করে মহারাজ বলির কাছে থেকে তিনি ত্রিলোক প্রার্থনা করেছিলেন।

হংস অবতারে ভগবান ভক্তিযোগ দিয়েছিলেন। আত্মজ্ঞান প্রকাশকে জ্ঞানের কথাও বলেছিলেন। পরমপুরুষ ‘ধন্বন্তরি’ রূপে অবতীর্ণ হয়ে মহারোগীদের রোগসকল নিজের নাম দ্বারাই বিনষ্ট করেছিলেন। সেই উগ্রবীর্য হরি ‘পরশুরাম’ রূপে অবতীর্ণ হয়ে পৃথিবীর ভারস্বরূপ ও দৈবকর্তৃক মৃত্যুর জন্য প্রেরিত ক্ষত্রিয়কুলকে একুশবার উৎপাটন করেন। আমাদের প্রতি প্রসন্ন হয়ে তিনি ‘রামচন্দ্র’ রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন। নিপীড়িত পৃথিবীর ভার অপনোদনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কলিযুগের ক্ষেত্রে হরি ‘কল্কিরূপে আবির্ভূত হয়ে কলির শাসনকারী হবেন। জগতের সৃষ্টি কার্যে তপস্যা, আমি ব্রহ্মা, ঋষিগণ ও নয়জন প্রজাপতি এবং রক্ষা কাজে ধর্ম, যম, অর্থাৎ বিষ্ণু, মুনিগণ, দেবগণ নৃপতিগণ, অসুরগণ, অধর্ম, রুদ্র, ক্রোধ–সকলেই সর্বশক্তিমনে ভগবানের মায়ের বিভূতি।

যিনি সৎ, অসতের পরতত্ত্ব নিত্য সুখময়, সর্বদা প্রশান্ত, ভয় রহিত, জ্ঞান স্বরূপ, যাঁকে কোনো শব্দ দ্বারা জানতে পারা যায় না, মায়া যার সামনে দাঁড়াতে লজ্জা পায়, মুনিগণ যাঁকে ব্রহ্ম বলে মানেন, সেই নিত্য সুখরূপই পরম পুরুষ ভগবানের স্বরূপ। তিনি সকল কর্মের যশদাতা এবং সমস্ত কর্মের প্রবর্তক। যিনি ভগবানের মায়ার কার্য অর্থাৎ লীলা শ্রদ্ধা পূর্বক কীর্তন করেন, অনুমোদন ও শ্রবণ করেন তার মন কখনও মায়া দ্বারা আবিষ্ট হয় না।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post