প্রতিটি শ্রদ্ধাবান মানুষের বিশ্বাস ঈশ্বর তার শান্তি ও আশ্বাস নিয়ে আসেন। তাই ঈশ্বরের কাছে সমস্ত পরিকল্পনা এবং আকাঙ্ক্ষা সমর্পণ করে, সবসময়ে ঈশ্বরের জ্ঞান এবং সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করেন। এমনকি মহাবিপদ ও অনিশ্চয়তার সময়েও ঈশ্বরের উপর নির্ভর করে যে তাঁর একটি নিখুঁত পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি সবাইকে সঠিক পথে নিয়ে যাবেন।
গীতায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সুস্পষ্টরূপে নিজেকে ভক্তের ত্রাণকর্তা রূপে বর্ণনা করছেন। শিশুকে যেমন তার বাবা-মা সর্বতোভাবে লালন-পালন করেন এবং তার ফলে সে নিরাপদে থাকে, ঠিক তেমনই ভক্তকে যোগ অনুশীলনের মাধ্যমে অন্যান্য গ্রহলোকে যাবার জন্য কোন রকম চেষ্টা করার প্রয়োজন হয় না । পক্ষান্তরে পরমেশ্বর ভগবান তাঁর মহান কৃপাবলে তাঁর বাহন গড়ুরের পিঠে চড়ে তৎক্ষণাৎ তাঁর ভক্তের কাছে উপস্থিত হন এবং তাকে জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত করে বৈকুণ্ঠে নিয়ে যান।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,
"অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্
।। গীতা ৯/২২।।
অনুবাদঃ অনন্যচিত্তে আমার চিন্তায় মগ্ন হয়ে, পরিপূর্ণ ভক্তি সহকারে যাঁরা সর্বদাই আমার উপাসনা করেন, তাঁদের সমস্ত অপ্রাপ্য বস্তু আমি বহন করি এবং তাঁদের প্রাপ্ত বস্তুর সংরক্ষণ করি"।
যে কোন বুদ্ধিমান মানুষের কর্তব্য অন্য সমস্ত পন্থা পরিত্যাগ করে ভক্তির পথটির প্রতি সর্বদাই অধিক গুরুত্ব প্রদান করা। তাই সকাম কর্মের বিভিন্ন পন্থার ব্রতী না হয়ে অথবা মনোধর্মপ্রসূত জ্ঞানের অনুশীলন না করে ভক্তিযোগে ভগবানের সেবা করলেই সবরকমের ধর্মাচারণ – দান, ধ্যান, যজ্ঞ তপশ্চর্যা যোগ আদির সমস্ত ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেইটি হচ্ছে ভক্তিযোগের বিশেষত্ব ও সুফল।। হরেকৃষ্ণ।।
।।জয় শ্রীকৃষ্ণ।।
