দ্বিতীয় স্কন্দ - নবম অধ্যায়

শ্ৰী শুকদেব কর্তৃক রাজার প্রশ্নের উত্তর দান

শ্ৰী শুকদেব বললেন–হে মহারাজ, হরির অনাদি-অবিদ্যাশক্তি নিজ মায়া দ্বারা অনুভবাত্মা জ্ঞান স্বরূপ জীবের দেহাদির সাথে সম্পর্ক অর্থাৎ জন্ম হয় না।

অব্যর্থ দৃষ্টি, মহাতপস্বী ব্রহ্মা কর্তৃক মন প্রাণ এবং জ্ঞানেন্দ্রিয় কর্মেন্দ্রিয় জয় করে দৈব পরিমাণে সহস্র বৎসর একাগ্র চিত্তে কঠোর তপস্যা তুষ্ট হয়ে ভগবান শ্রী হরি তাকে সর্বোৎকৃষ্ট নিজ ধাম বৈকুণ্ঠ লোক দর্শন করালেন। ব্রহ্মা সেই বৈকুণ্ঠে এসে নিখিল ভক্তজনের প্রতিপালক লক্ষ্মীদেবীর প্রিয়তম নারায়ণের দর্শন লাভ করলেন। তার চারটি বাহু, বক্ষস্থলে লক্ষ্মী দ্বারা অলংকৃত। পরনে পীতবসন, কর্ণে কুন্তল অরুণবর্ণ দুটি লোচন, আহ্লাদিত জাস্য যুক্ত, বদন। উত্তম আসনে তিনি বসে আছেন। তিনি উত্তম পাসদবৃন্দ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

ভগবানের ঐ রূপ দেখে বিশ্বশ্রষ্ঠব ব্রহ্মার অন্তর আনন্দে পরিপূর্ণ হল। তিনি তাঁর চরণকমল বন্দনা করলেন।

ভগবান শ্রীহরি বললেন–হে বেদগর্ভ ব্রহ্মা, তোমার মঙ্গল হোক। আমার ইচ্ছার প্রভাবেই তুমি বৈকুণ্ঠ লোক দর্শন করলে। তুমি যখন জষ্ঠি করে বিমোহিত হয়েছিলে, তখন আমিই তোমাকে তপস্যা করতে আদেশ করেছিলাম। তপস্যা আমারই সাক্ষাৎ হৃদয়, আমিই তপস্যার স্বরূপ তপস্যার দ্বারা আমি এ জগৎ যেমন সৃষ্টি করি তেমন তপস্যার দ্বারাই তা সংহার করি। তপস্যার দ্বারা বিশ্বপালন করি। করি। তপস্যা আমার শক্তি যা সাধারণের পক্ষে বোঝা অত্যন্ত দুষ্কর।

সৃষ্টির পূর্বে আমি একাই ছিলাম, সৃষ্টির পরেও আমিই আছি। এই যে বিশ্ব সেটাও আমি মহাপ্রলয়ের পরে যা অবশিষ্ট থাকবে, তাও আমি। অর্থাৎ অক্ষদি, অনন্ত ও অদ্বিতীয় সর্বশক্তিমান আমিই একমাত্র তত্ত্বকার্যের পর কারণের গুণ কার্যে উপলব্ধি হয়, তার পূর্বে কিন্তু কারণরূপে তার বিদ্যমান থাকে, তেমনি আমিও ভূত, ভৌতিক পদার্থে প্রবিষ্ট এবং ঐ সকলে অপ্রবিষ্ট থাকি অর্থাৎ আমার সত্ত্বাই ঐরকম। যে বস্তু সব সময় সব অবস্থাতেই থাকতে পারে তাই আত্মা।

হে রাজন, ঐ বিরাট পুরুষ থেকে ঐ বিশ্বের যে রূপ সৃষ্টি এবং অন্যান্য যে সকল প্রশ্ন তুমি আমাকে করেছ ভাগবত ব্যাখ্যা শ্রবণ করলে তার উত্তর পাবে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post