দ্বিতীয় স্কন্দ - দশম অধ্যায়

শ্রীমদ্ভাগবতের দশ লক্ষণ বর্ণনা

শ্রীমদ্ভাগবতে দশটি বস্তুর কথা বলা হয়েছে –সর্গ (সৃষ্টি), বিসর্গ (বিসৃষ্টি) স্থান, পোষণ, উতি, মন্বন্তর, ঈশান, কথা, নিরোধ (প্রলয়), মুক্তি, আশ্রয়। পরমেশ্বর থেকে প্রকৃতির সত্ত্বাদি গুণত্রয়ের পরিমাণ হেতু আকাশাদি পঞ্চ মহাভূত, শব্দাদি পঞ্চতন্মাত্র, একাদশ ইন্দ্রিয়, মহত্তত্ত্ব ও অহংকারতত্ত্ব–এগুলির বিরাজরূপে ও স্বরূপে যে উৎপত্তি, তার নাম (সর্গ, ব্রহ্মা থেকে যে স্থাবর। জঙ্গমাদির সৃষ্টি তা ‘বিসর্গ। ভগবান কর্তৃক সৃষ্ট বস্তু গুলির যথাযথ শৃঙ্খলা রক্ষা করে পালনে যে উৎকর্ষ তার নাম ‘স্থিতি। ভক্তদের প্রতি ভগবানের অনুকম্পার নাম ‘পোষণ’। কর্মের যে বাসনা তা ‘উতি’ মনু প্রভৃতি ভক্তগণের ধর্মের নাম ‘মন্বন্তর। হরির অবতার বৃন্দের চরিত্র এবং তার অনুবর্তী ভক্তদের নানা আখ্যানযুক্ত পবিত্র কথাই ‘ঈশান কথা। ভগবান হরি যোগনিদ্রা অবলম্বন করলে নিজ উপাধির সাথে জীবগণের ভগবানে যে লয় ‘নিরোধ’ অবিদ্যার দ্বারা অধ্যস্ত জীবের কতৃত্বাদি অভিনিবেশ পরিহার পূর্বক নিজস্বরূপে যে অবস্থান তা ‘মুক্তি। যা হতে এই নিখিল বিশ্বের সৃষ্টি এবং যাতে সব কিছু লয় প্রাপ্ত হয়, যাকে পরব্রহ্ম ও পরমাত্মা বলা হয়, তার নামই আশ্রয়।

ভগবানের স্থূলরূপের বহির্ভাষা পৃথিবী, অপ, তেজ, মরুবায়ু, আকাশ, অহংকার, মহত্তত্ত্ব প্রকৃতি — আটটি আবরণের দ্বারা আবৃত রয়েছে। ভগবানের সূক্ষ্মরূপ লিঙ্গ শরীর স্থূল শরীরের কারণ স্বরূপ। তাই কোনো বিশেষণ নেই। তা উৎপত্তি স্থিতি ও লয়শূন্য এবং সর্বদা একরূপ অর্থাৎ অপক্ষয়াদিরহিত, এজন্য বাক্য ও মনের অগোচর।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post