মানুষ চেষ্টা করে নিজের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। সেজন্য তাকে নৈতিক জীবনযাপন করতে হয়। এই নৈতিক মান বজায় না রাখলে পতন হয়। এইরুপ নৈতিকতার ব্যক্তিরা জ্ঞানালোক প্ৰাপ্তির জন্য সাধুসঙ্গ করে, গীতা ও ভাগবত পড়ে । এইভাবে জাগতিক বন্ধন ছেদন হতে থাকে।
পৃথিবীর প্রতিটি জীব তার বর্তমান বাধা বিপত্তির বেড়ায় ঘেরা জীবনের অবস্থা অতিক্ৰম করে আরও উন্নতির পথে যাওয়ার ইচ্ছা করে । ভগবানের সৃষ্ট সচেতন জীবের মধ্যে মনুষ্য জাতির নিজস্ব একটা বৈশিষ্ট্য আছে যে তার বিচার দিয়ে চিন্তা ও কাজ করার সমৰ্থ্য আছে ।
কিছু অচেতন মানুষ আছে যারা রুপ, রস, গন্ধ, শব্দ ও স্পর্শ এই পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ের প্রতি আসক্ত। যখন মানুষ জানতে পারে যে উক্ত পাঁচটি উপাদান শুধু দুঃখই নিয়ে আসে ও ক্ষণস্থায়ী তখন সে আর তার জন্য লালায়িত হবে না ।
এটা ঠিক যে পাশবিক প্ৰবৃত্তিগুলি মানুষের ভিতরে ওৎ পেতে থাকে কিন্তু মানুষ অসৎকে দমন করে এক সুসভ্য জীবনযাপন করতে চায় ও সদ আচরণ বিধি ও ধৰ্মীয় নিয়মনীতি মেনে চলতে চায় । তাই সে নিজের চারিদিকে এক ধর্মীয় বেড়া সৃষ্টি করে।
যে মানুষ ভগবানের নিয়ম নীতিতে নিজেকে নিযুক্ত করেছে ও মনকে নিয়ন্ত্ৰণে রাখে , সে ভগবানের উজ্জ্বল রুপ নিজ হৃদয়ে স্থাপন করবে ও নিজেকে জীবন সমুদ্রে নিমজ্জিত না করে এই পৃথিবীতে তার অবস্থান হয় অৰ্থবহ ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,
"তুল্যনিন্দাস্তুতির্মৌনী সন্তুষ্টো যেন কেনচিৎ।
অনিকেতঃ স্থিরমতির্ভক্তিমান্মে প্রিয়ো।।
অর্থাৎ হে অর্জুন! যিনি কুসঙ্গ-বর্জিত, সংযতবাক্, যৎকিঞ্চিৎ লাভে সন্তষ্ট, গৃহাসক্তি শূন্য এবং যিনি স্থিরবুদ্ধি ও আমার প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত, সেই রকম ব্যক্তি আমার অত্যন্ত প্রিয়।" (গীতা ১২/১৯)
ভগবানের নির্দেশ হল গীতার বানী। প্রতিটি মানুষের উচিত নিয়মিত গীতা পাঠ ও শ্রবন করা। তাহলে সমস্ত জড় কামনা বাসনা ত্যাগ করে নিজেকে বন্ধন মুক্ত করবে — তারপরই জীবের গন্তব্যস্থল ভগবৎ ধামে প্রবেশ করতে পারবে ।। হরেকৃষ্ণ।।