কলিযুগে নাম জপই সব চেয়ে বড় তপস্যা। নাম জপের মধ্য দিয়েই যাবতীয় কর্মফলের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, নাম জপের মধ্য দিয়েই ইষ্টের সন্ধান মিলবে। আর কলি যুগে কৃষ্ণ নাম ব্যতীত গতি নাই।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে-
এই ষোলো নাম বত্রিশ অক্ষর কেই তাই মুক্তির উপায় বলা হয়। এটিই মহামন্ত্র। সর্ব অবস্থায় এই মন্ত্র ও নাম জপ করা যায়। কিন্তু নাম তো জপ করবেন, এই মহামন্ত্রের প্রকৃত অর্থ কী জানেন? চলুন জেনে নিই।
হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রটি ৩টি শব্দ দ্বারা গঠিত হয়েছে –
১। হরে
২। কৃষ্ণ
৩। রাম
“ হরে” শব্দটি সংস্কৃত “হরা” শব্দের থেকে এসেছে যা দ্বারা শ্রীমতি রাধারাণীকে সম্বোধন করা হয়। রাধারাণী ভগবানের পরম আনন্দময়ী শক্তি। সৃষ্টির আদির সময় পরমেশ্বর ভগবান তার নিজের সেবা ও ভক্তসঙ্গ লাভের জন্য শ্রীমতি রাধারাণীকে তার হৃদয়ের বামপাশ থেকে সৃষ্টি করেছেন। কাজেই রাধারাণীর অনুমতি ব্যাতীত কোন মানুষ এমনকি দেবতারাও ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করতে পারে না।
“কৃষ্ণ” শব্দের দ্বারা সর্বাকর্ষক পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বোঝায়। তিনিই পতিতপাবন। তার নাম করলে সর্ব পাপের থেকে মুক্তি মেলে, তিনি কৃপা করলে জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
“রাম” শব্দ দ্বারা সর্ব আনন্দদায়ক শ্রীমান “বলরাম”এর কথা বলা হয়। বলরাম বৃন্দাবনে সবার অন্তরে আনন্দ সঞ্চার করতেন।
তাই “হরে কৃষ্ণ” মহামন্ত্রের সঠিক অর্থ হলো-“হে পরমেশ্বর ভগবান,হে পরমেশ্বর ভগবানের দিব্য শক্তি, কৃপাপূর্বক আমাকে আপনাদের চিন্ময় জগতের প্রেমময়ী সেবায় নিয়োজিত করুন।”