শ্রীকৃষ্ণ প্রেমের এক অজানা কাহিনী


আমরা সকলেই জানি শ্রী রাধা কৃষ্ণয়ের প্রেম ও তার অসংখ্য বর্ণন। আমরা জানি শ্রী মুরলীধর তার প্রেমিকা কে ঠিক কতটা ভালো বাসতেন আর তার সাথে কতটা সময় কাটিয়েছেন। আমরা জানি তারা কিভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করতেন, গল্প করতেন, খুনসুটি করতেন একে অপরের সাথে। আমরা এও জানি দুজন দুজনের সাথে দেখা না হলেও কি ভাবে শ্রী রাধা তাঁর বাঁশির সুরে মোহিত হতেন। কিভাবে একে ওপরের জন্য অপেক্ষা করতেন যামুনার পারে। কীভাবে তারা মনে মনে কথা বলতেন, চোখে চোখ রাখতেন, অনুভব করতেন একে অপরকে। তাদের এই প্রেম ছিল আপার, স্বাধীন... এক অমর প্রেমের কাহিনি।।

তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে কীভাবে ভগবান শ্রী বাসুদেব তার সবচেয়ে কাছের প্রিয়াকে ভুলে গেলেন, কীভাবে চলে গেলেন তাঁকে ছেড়ে? কেন গেলেন সেটা আমরা সকলেই হয়তো জানি, জানি উনি তার মামা কংসর সাথে যুদ্ধ করে নিজের বাবা মা তথা সকল প্রজাকে কে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্নটা হলো প্রভু তার প্রিয়াকে ফেলে চলে গেলেন কীভাবে? কীভাবে মানালেন শ্রী রাধা রানীকে? কি করে মানালেন নিজের মন কে! কি করে পারলেন এই আসাধ্য সাধন করতে!!!

তাই যখন ভগবান তৈরি হয়ে মা যশোদা ও বাবা নন্দলালের আশীর্বাদ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন বৃন্দাবন থেকে মথুরার উদ্দেশ্যে, ঠিক সেই সময় তার প্রেমিকা শ্রী রাধারানী খবরটি পেয়ে এক নির্জন স্থানে বসে মনের দুঃখ্যে অশ্রু ব্যয় করেই চলেছেন যা থামার নাম নেই, কষ্টে তার বুক ফেটে চলছে, আর তারি মধ্যে কিনা তার প্রিয় কানাই, সে নাকি হাসতে হাসতে চলেছে মথুরার দিকে একদম রাজার বেশে। এ কেমন প্রেম? একীসের ভালোবাসা তাহলে? কি করে একজন সত্যি কারের প্রেমিক তাঁর প্রেমিকাকে এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারে!!

তা গিরিধারী যখন বুঝতে পারছেন, অন্তর থেকে দেখতে পারছেন তাঁর প্রিয় রাধা কষ্ট পাচ্ছেন, কাঁদছেন অঝোরে, ঠিক তখনই তিনি তাঁর সারথী কে বললেন, হে সারথী রথ থামাও এখুনি, সময় দাও একটু আমায়, আমার প্রিয় রাধিকা যে আজ অশ্রুময়। যেতে দাও আমায় তার কাছে একটিবার, কথা বলতে দাও আমায়, আমার প্রিয় রাধাকে এভাবে রেখে যেতে পারবোনা আমি আর এক মুহূর্তও। এই বলতে বলতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ছুটতে ছুটতে গেলেন তার রাধিকার কাছে, আর দেখছেন কীভাবে তার রাশ রাশেশ্বরী কান্নায়, দুঃখে কষ্টে ভেঙে পড়ছেন আর মনে মনেই তাঁকে দুষছেন। ভগবানও অবাক দৃষ্টিতে তাঁকে দেখছেন, তাঁর এই পরম আত্মীয়, প্রেমিকা, সুন্দরী সখা আজ একে বারেই ভেঙে পড়েছেন কৃষ্ণ বিরহে। তাঁর এই রূপ একেবারেই অজানা।

এ দৃশ্য দেখে প্রভু তৎক্ষণাৎ বললেন, হে প্রিয় এদেখো আমি, এসেছি তোমার জন্য। কেঁদোনা আর, আমি ছিলাম, আছি আর থাকবো তোমারই আজীবন আমরণ, তুমিও তাই। জানি দুষছো তুমি আমায় আজ, করছো আমায় প্রশ্ন! কিন্তু বিশ্বাস করো প্রতারক আমি নয়, বিচ্ছেদ আমি করছিনা, নাই আমি ভাবতে পারি একথা। শুধু মাত্র আমার কর্মের উদ্দেশ্যে আমি এগিয়ে চলেছি। আমার নতুন লক্ষ্য হলো সকল প্রজার উদ্ধার, মাতা পিতার মুক্তি, পারিবারিক উত্তরদায়িত্ব, রাজধর্ম পালন।

শ্রী রাধা: হে দীনবন্ধু আজ তুমি এই সব আমায় বলছো! মনে নেই আমাদের সেই সব দিনগুলি, কত ফেলে আসা মুহূর্তগুলো, কই তখনতো এই সব কথা আমায় তুমি বলোনি, বলোনি আমায় একদিন এভাবে চলে যেতে হবে, কই বলেছো কখনো? এ কেমন প্রেম সখা?? তা যেতে যদি হয়ই, নিয়ে চলো আমায় তোমার সাথে, চলো আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই, এবার তো তোমার কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয় আর... কি তাইতো এবার তো নিয়ে যাবে তোমার সাথে প্রিয় ??

এই কথা শুনে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ কিছু না বলেই শ্রী রাধিকার থেকে মুখ ফিরিয়ে পিছন ঘুরে দাঁড়ালেন, চোখে তাঁর জল, কিছু ক্ষণ কোনো কথা না বলে একদম চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলেন শুধু, এই দেখে শ্রী রাধা রাগে, দুঃখে বলছেন, হে গোপাল তুমি যে এতো নিষ্ঠুর আমি জানতামনা, জানতাম না যে তুমি গিরিরাজের থেকেও শক্ত পাথর। যাক আমায় তুমি ক্ষমা করে দিও, আমি তোমার সাথে প্রেম করেছি, ভালো বেসেছি তোমায় নিঃস্বার্থ হয়ে, তার প্রায়শ্চিত আজ আমি করছি।

এসব শুনে যেই শ্রী কৃষ্ণ শ্রী রাধার দিকে ফিরে তাকালেন, তাঁকে দেখে শ্রী রাধা অবাক দৃষ্টিতে দেখলেন, আরে একি!!! ইনি তো তিনিই স্বয়ং। শ্রী কৃষ্ণ শ্রী রাধিকা হয়ে গেছেন! রাধা রানী বলছেন একি তোমার লীলা প্রভু?

ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলছেন : হে রাধীকে চিন্তা করোনা, বিবাহ দুটি মানুষের মধ্যে হই, এ যে দুই মনের মিলন। কিন্তু বিশ্বাস করো আমরা তো দুইজন আলাদা নয়, আমরা এক, এক শরীর, এক আত্মা, একই হৃদয়। তা তুমিই বলো কী করে আমি আমার সাথেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।? যে কৃষ্ণ সেই রাধা, আর যে রাধা, সেই কৃষ্ণ। আমরা সর্বদাই এক ও অভিন্ন।।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post