মহর্ষি শৌনকের আশ্রমে সৌতির আগমন
ও নারায়ণং নমষ্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।।
আদিদেব নারায়ণ, নরোত্তম নর, দেবী সরস্বতী এবং ভগবান ব্যাসদেবকে ভক্তিভরে প্রণাম করিয়া মহাভারত পাঠ আরম্ভ করিবে।
পুরাকালে নৈমিষারণ্যে কুলপতি মহর্ষি শৌনক দ্বাদশ বর্ষব্যাপী এক মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করিয়াছিলেন। সেই সময় লোমহর্ষণপুত্র পুরাণকথক উগ্রশ্রবা সৌতি সেখানে বিনীতভাবে একদিন উপস্থিত হইলেন। আশ্রমের মুনিগণ তাঁহাকে যথোচিত সৎকার করিয়া জিজ্ঞাসা করিলন সৌতি, তুমি এখন কোথা হইতে আসিতেছ, এতকাল কোথায় ছিলে? সৌতি উত্তর করিলেন আমি মহারাজ জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে গিয়াছিলাম। সেখানে মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস রচিত বিচিত্র মহাভারত-কথা মুনিবর বৈশম্পায়নের মুখে শ্রবণ করিলাম। তারপর বহু তীর্থ ভ্রমণ করিয়া সমস্ত পঞ্চক (কুরুক্ষেত্র) তীর্থে গমন করি, যেখানে পূর্ব্বে কুরু-পাণ্ডবদের যুদ্ধ হইয়াছিল। সেখান হইতে আপনাদের দর্শনার্থে এই পবিত্র আশ্রমে আসিয়াছি। এখন আপনারা আমার নিকট কোন্ কাহিনী শুনিতে ইচ্ছা করেন, আদেশ করুন। ঋষিগণ বলিলেন মহারাজ জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে মুনি বৈশম্পায়ন ব্যাসদেব বিরচিত যে মহাভারত-কথা বলিয়াছিলেন, আমরা তাহাই শ্রবণ করিতে ইচ্ছা করি।
সৌতি বলিলেন সেই চরাচর গুরু শ্রীহরির চরণে প্রণাম করিয়া বেদব্যাস প্রণীত সেই পবিত্র মহাভারত-কথা বলিতে আরম্ভ করিতেছি।
মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বিরচিত মহাভারত