সৃষ্টি বর্ণন

সৃষ্টি বর্ণন

প্রথমতঃ এই বিশ্বসংসার ঘোরতর অন্ধকারে আবৃত ছিল। অনন্তর সমস্ত বস্তুর স্বীজভুত এক অণ্ড (ডিম) সেই পরমেশ্বরের ইচ্ছায় প্রসূত হইল। সেই অণ্ডে অনাদি অনন্ত অচিন্তনীয়, অনির্বচনীয়, সত্যস্বরূপ, নিরাকার, জ্যোতির্ময় ব্রহ্মা প্রবিষ্ট হইলেন।


নিষ্প্রভেহস্মিন্ নিরালোকে সর্ব্বতস্তমসাবৃতে।

বৃহদণ্ডমডুদেকং প্রজানাং বীজমব্যয়ম্।।


তাহা হইতে ভগবান্ প্রজাপতি ব্রহ্মা স্বয়ং জন্ম পরিগ্রহ করিলেন। তৎপরে প্রজাপতি ব্রহ্মা হইতে সপ্তর্ষি, স্বয়ম্ভব মনু, প্রজাপতি দক্ষ, বিভিন্ন দেবতাবৃন্দ, জল, পৃথিবী, বায়ু ইত্যাদি ক্রমে ক্রমে আবির্ভূত হইলেন। তাঁহাদের হইতে বহু দেবতা, মনুষ্য, পশু পক্ষী ও অন্যান্য জীবগণ সৃষ্ট হইল।


যদিদং দৃশ্যতে কিঞ্চিভূতং স্থাবর জঙ্গমম্।

পুনঃ সংক্ষিপ্যতে সর্ব্বং জগৎ যুগক্ষয়ে।।

                                                -আদি পর্ব্ব, ১/৩৮


কিন্তু প্রলয়কাল উপস্থিত হইলে এই বিশাল বিশ্বসংসার সম্পূর্ণরূপে সেই একমাত্র পরব্রহ্মে লীন হইবে, আর কোন কিছুই চিহ্নমাত্র থাকিবে না। একবার প্রলয়, পুনর্ব্বার উৎপত্তি ও স্থিতি-এইরূপে এই সংসারচক্র নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘূর্ণিত হইতেছে।


যে সকল জীব সৃষ্ট হইল, তাহাদের অবস্থিতির স্থান, ত্রিবিধ রহস্য, চারি বেদ, যোগশাস্ত্র, বিজ্ঞান শাস্ত্র, ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ প্রতিপাদক বিবিধ শাস্ত্র, সমাজের শৃঙ্খলা বিধান প্রভৃতি যাবতীয় বিষয় মহর্ষি ব্যাসদেব যোগ ও তপস্যাবলে অবগত ছিলেন। এই মহাভারতে সমস্ত ইতিহাস ও বেদ-প্রতিপাদ্য সনাতন ধর্ম এবং তত্ত্বজ্ঞান কথিত হইয়াছে।


তপসা ব্রহ্মচর্য্যেন ব্যস্য বেদং সনাতনম্।

ইতিহাসমিমং চক্রে পুণ্যং সত্যবতীসূতঃ।।

                                                -আদি পর্ব্ব, ১/৫৪


সত্যবতীনন্দন মহর্ষি ব্যাসদেব কঠোর তপস্যা ও ব্রহ্মচর্য্যের প্রভাবে সনাতন বেদশাস্ত্রকে বিভক্ত করিয়া পুণ্যজনক এই পবিত্র ইতিহাস (অর্থাৎ মহাভারত) রচনা করিয়াছেন।


মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বিরচিত মহাভারত

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post