দুর্গা নামের মাহাত্ম্য

মা!

কেন ডাকছিস রে?

মা! মা! কবে কবে তোকে দেখবার ইচ্ছা হবে মা? দে তোকে দর্শন করবার ইচ্ছা জাগিয়ে দে মা! কত ইচ্ছা হোল, কিন্তু হায়--- তোকে দেখবার ইচ্ছা হোল না। বল্, বল্ মা। কেমন করে তোকে ডাকবো? কি করলে তোকে দেখবার ইচ্ছা জাগবে মা?

ডাক্, আমায় ডাক্, মা মা বলে ডাক্, তা হলেই আমায় দেখবার প্রবল বাসনা হবে। কেবল ডাক্, মা মা বলে ডাক্, দুর্গা দুর্গা বলে ডাক্, উঠতে বসতে খেতে শুতে দুর্গা নাম জপ কর্। 

দুর্গা দুর্গেতি দুর্গেতি দুর্গানাম পরং মনুঃ।

যো জপেৎ সততং চণ্ডি জীবন্মুক্ত স মানবঃ॥ 

ভগবান শঙ্কর বলেছেন, “হে চণ্ডি। দুর্গা দুর্গা দুর্গা-এ নাম পরম মন্ত্র। এ নাম যে সর্ব্বদা জপ করে সে জীবন্মুক্ত।

মা মা। আমি জীবন্মুক্ত হ'তে চাই না মা, তোকে দেখতে চাই, কিন্তু জানিনা কেন তোকে দেখবার প্রকৃত ইচ্ছা আজও হোল না। দে, জাগিয়ে দে তোকে দেখবার প্রবল ইচ্ছা। 

তুই ডাক্।—ডাকতে ডাকতে ইচ্ছা জাগবে। আমি তোকে ছেড়ে এক পলও থাকি না, আমি তোকে বুকে করে রেখেছি।

আমিতো তা বুঝি না, আমায় বুঝিয়ে দে, জানিয়ে দে, আমি তোকে প্রত্যক্ষ দেখি। মানুষ যেমন মানুষকে দেখে, আমি তেমনি তোকে প্রত্যক্ষ দেখতে চাই ।

আমাকে ডাক্, আমার নাম কর, তাহ'লে তোর দেখবার প্রবল ইচ্ছা হবে। ইচ্ছা হ'লেই দেখা দেব। ওরে! শুধু তোর একান্ত দর্শনের ইচ্ছার অপেক্ষা করছি, ইচ্ছা হলেই দেখা পাবি।

তাতো হচ্ছে না মা। উপায় বলে দে।

দুর্গা দুর্গা দুর্গা—অবিরাম দুর্গা নাম জপ কর্। ঐ শোন্ শিব বলছেন :---

দুর্গা-স্মরণজং দেবি দুর্গা স্মরণজং ফলম্। 

দুর্গায়াঃ স্মরণেনৈব কিংন সিধ্যতি ভূতলে॥ 

শৈবো বা বৈষ্ণবো বাপি শাক্তো বা গিরিনন্দিনি। 

ভজেদ্দুর্গাং স্মরেদ্দুর্গাং যজেদ্দুর্গাং শিবপ্রিয়াম্॥     

তৎক্ষণাদ্দেব দেবেশি মুচ্যতে ভব বন্ধনাৎ॥

মুণ্ডমালা তন্ত্র

হে দেবি! দুর্গা-স্মরণের ফল আমার বলবার সাধ্য নাই। দুর্গার স্মরণের দ্বারা জগতে কি না সিদ্ধ হয়! শৈব, বৈষ্ণব অথবা শাক্ত---যে কেহ হোক্ না কেন, যদি দুর্গাকে স্মরণ করে, শিবপ্রিয়া দুর্গাকে অর্চ্চনা করে, হে দেবতাগণেরও ঈশ্বরি সে তৎক্ষণাৎ ভব-বন্ধন হতে মুক্ত হয়। 

শঙ্কর আমার এ কথা বলেছিলেন, আমি আজ তোকে বলছি। তুই দুর্গা দুর্গা দুর্গা বল্, যা চাবি তাই পাবি। 

বুঝি না মা তোর ইচ্ছা, বুঝি না তোর ভাষা!

তুই তো তুই—আমি জ্ঞানীর চিত্তকেও বলপূর্বক আকর্ষণ করে মোহগ্রস্ত করি।

তোর চরণে প্রণাম। তুই সব সেজে খেলা করছিস্, এ'কথা জেনে শুনে অভ্যাস করেও ভুলে যাই। তোকে আড়াল করে বিষয় এসে আকর্ষণ করে, এ কি মা! কবে এ বিষয়-বিভীষিকা দূরে হবে? 

সেজন্য তোকে ভাবতে হবে না—সে ব্যবস্থা আমি করবো। ওরে। যে আমার শরণাগত হয় তাকে কিছু চিন্তা করতে হয় না। ঐ শোন্, শঙ্কর বলেছেন

মহোৎপাতে মহারোগে মহাবিপদি সঙ্কটে।

মহাদুঃখে মহাশোকে মহাভয় সমুত্থিতে।

যঃ সদা সংস্মরেদ্দুর্গাং যো জপেৎ পরমং মনুম্।

স জীবলোকে দেবেশি নীলকণ্ঠত্বমাপ্নুয়াৎ।।

মহাদৈব-অমঙ্গলে, মহারোগে, মহাবিপদে, মহাসঙ্কটে, মহাদুঃখে, মহাশোকে, মহাভয় সমুত্থিত হলে যে সতত দুর্গাকে স্মরণ করে, দুর্গার পরম মন্ত্র জপ করে, হে দেবেশি! এ জগতে সে শিবত্ব প্রাপ্ত হয়। কেবল জপ কর্ দুর্গা দুর্গা দুর্গা।

মা মাগো আমার যে তোর নামে শ্রদ্ধা নাই মা। এ শ্রদ্ধাহীনের দুর্গা নামে ফল হবে? 

ওরে আনন্দের দুলাল। ঐ শোন শিব বলেছেন—

শ্রদ্ধয়াশ্রদ্ধায়া বাপি যঃ কশ্চিন্মানবঃ স্মরেৎ।

দুর্গাং দুর্গশতং তীর্ত্ত্বা স যাতি পরমাং গতিম্।। 

মুণ্ডমালা তন্ত্র

শ্রদ্ধা অথবা অশ্রদ্ধা করেও যে কোন মানব যদি দুর্গাকে স্মরণ করে, তা'হলে শত শত মহাবিঘ্ন, ভববন্ধ, কুকর্ম্ম, শোক, দুঃখ, নরক, যমদণ্ড, মহাভয়, অতিরোগ, এ সকল হোতে পরিত্রাণ পেয়ে পরমা গতি লাভ করে। 

তোর কোন চিন্তা নাই, তুই কেবল দুর্গা দুর্গা কর্। এই বিশাল বিশ্বে একমাত্র আমিই নানা সাজে বিরাজ করছি। আমি ভিন্ন আর কিছু নাই। তুই কেবল দুর্গা দুর্গা কর্। ঐ শোন্ --

ভুতানি দুর্গা ভুবনানি দুর্গা দুর্গা স্ত্রিয়ো নরশ্চাপি পশুশ্চ দুর্গা।

যদ্ যদ্ দৃশ্যং খলু সৈবো দুর্গা দুর্গাস্বরূপাদপরং ন কিঞ্চিৎ।।

নিখিল ভুত দুর্গা, চতুর্দশ ভুবন দুর্গা, জগতের নারী মাত্রই দুর্গা, সমস্ত নর দুর্গা, পশু সমুদয় দুর্গা, যা কিছু দৃশ্যজাত সব দুর্গা, দুর্গা স্বরূপ ভিন্ন আর কিছু নাই।

 মা মা মা   মা মা মা -------------

"মাতৃগাথা"

ভগবান শ্রীশ্রীসীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post